বিনোদন ডেস্কঃ বাংলা চলচিত্রের কিংবদন্তি সালমান শাহ এর মৃত্যুর পর কেটে গেছে প্রায় তিন দশক! তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এমন এক নায়ক, যাঁকে ঘিরে দর্শক-ভক্তদের আবেগ আজও অটুট। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণকে ঘিরে আলোচনা ও বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের সাথে সাথে আরও ঘনীভূত হচ্ছে সেই রহস্য। ‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ নামে এক বই প্রকাশ হওয়ার পর এই আলোচনায় নতুন এক মাত্রা যোগ করে। কিন্ত বইটি প্রকাশিত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
বইটির লেখক ছিলেন সাংবাদিক রবি আরমান। তিনি পূর্ণিমা ম্যাগাজিনের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন এবং ২০০৯ সালের শেষদিকে এই সাংবাদিক মারা যান। ১৯৯৭ সালে বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। এ বই এ সালমান শাহ এর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যে বিষয়টিই বইটির বিরুদ্ধে আপত্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বইটি প্রকাশের পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বইটিতে তার ছেলের মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি তিনি লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছিলেন।
এরপর আদালত বইটির বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা দেন। একইসাথে বাজের থেকে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
যার ফলে প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই বইটি পরিণত হয় একটি নিষিদ্ধ ও দুর্লভ গ্রন্থে।
তৎকালীন এক সিনিয়র বিনোদন সাংবাদিকের ভাষ্যমতে, বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘আত্মহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করাই তাঁর পরিবারের ক্ষোভের বড় কারণ ছিল। কারণ সালমানের মা নীলা চৌধুরী বরাবরই দাবি করে এসেছেন, তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
শুধু মৃত্যুর প্রসঙ্গই নয়, বইটির প্রচ্ছদের পেছনের বর্ণনাতেও সালমান শাহকে ঘিরে ছিল আবেগ ও বিষাদের আবহ। সেখানে বাংলা চলচ্চিত্রের বাগানে ফুটে ওঠা এক উজ্জ্বল ফুলের সাথে তাঁকে তুলনা করা হয়েছিল। একই সাথে তাঁর অকালমৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ও বিষাদের কথাও তুলে ধরা হয়।
বইটির প্রচারে বলা হয়েছিল, সালমান শাহর জীবনের নানা গোপন অধ্যায় এবং ঢাকাই সিনেমার সেই সময়ের বিভিন্ন ঘটনা এতে উঠে এসেছে। ফলে প্রকাশের পর থেকেই বইটি নিয়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও পাঠকদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ।
কিন্ত, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বইটির স্বাভাবিক বাজারজাতকরণ আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সময়ের সাথে সাথে এর কপি দুর্লভ হয়ে ওঠে। সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও নানা প্রশ্নের কারণে বইটি নিয়েও কৌতূহল টিকে থাকে।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও সেই ঘটনার নানা দিক নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আর সেই আলোচনার ইতিহাসে ‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ বইটি আজও একটি বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে আছে।
আপনি কি পড়েছেন এই বইটি?
—জা.অর্থনীতি/এসআরএস