নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মীদের জাঁকজমকপূর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের থলথলে রূপ আবারও প্রকাশ্যে এলো। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের এক স্টাফের কোমরের বেল্ট থেকে সাড়ে ১৩ কেজিরও বেশি ওজনের ১২০টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে কাস্টমস হাউস, ঢাকা। উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো চিরুনি অভিযানে চোরাচালানের এই চালানসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হন বিমানের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার মোঃ সোয়েব গাজী।
কাস্টমস সূত্র জানায়, দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের 'BG 148' ফ্লাইটে করে বড় ধরণের একটি স্বর্ণের চালান আসার খবর পায় কাস্টমস কর্মকর্তা ও প্রিভেন্টিভ টিম। বিমানটি অবতরণের পরপরই কাস্টমস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রানওয়েতে উড়োজাহাজ ঘিরে ফেলে বিশেষ তল্লাশি (রামেজিং) শুরু করে।
উড়োজাহাজ পরিষ্কারের কাজ শেষে বিমানের মেকানিক্যাল ও ক্লিনিং দল নিচে নামার সময় দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড নুর ইসলামের সহায়তায় তাদের দেহ তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কারিগরি সহকারী সোয়েব গাজীর হাঁটাচলায় সন্দেহ হলে তার শরীর তল্লাশি করে কাস্টমস টিম। এতেই ফাঁস হয় চোরাচালানের অভিনব কৌশল—নিজের পরিহিত কোমরের বেল্টের ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে কালো স্কচটেপে মুড়িয়ে স্বর্ণের বারগুলো গোপন করে রেখেছিলেন সোয়েব।
পরে কাস্টমস হলে এনে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে কালো স্কচটেপ খুলে ১২০টি গোল্ড বার গণনা করা হয়। যার মোট ওজন ১৩.৯২ কেজি। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এয়ারপোর্ট সীমানা পার করার আগেই কাস্টমস ও যৌথ গোয়েন্দা টিমের তৎপরতায় ভেস্তে যায় পাচারকারীদের এই মাস্টারপ্ল্যান।
আটককৃত কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ আপাতত বিমানবন্দর কাস্টমসের সুরক্ষিত গুদামে রাখা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জব্দকৃত এই বিপুল স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে জমা দেওয়ার আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র ও দেশীয় সহযোগীদের খুঁজে বের করতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।
—জা.অর্থনীতি/আরএস