কেন জেলে আরও কয়েক দিন বেশি থাকতে চেয়েছিলেন সালমান?

বিনোদন ডেস্কঃ ১৯৯৮ সালে হওয়া চর্চিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ঘটনা প্রায় সবারই জানা। এ মামলার জেরে কয়েকবার জেলের কালো কুঠুরিতে রাত পার করেছেন বলিউড ‘ভাইজান’ সালমান খান।  জেল থেকে যখন একজন মানুষ মুক্তি পায় তখন তার বেশ খুশি হওয়ার কথা। কিন্ত সালমান খান এর ক্ষেত্রে হয়েছিলো উল্টো। 

তিনি জানান, জেল থেকে বের হওয়ার পর তার মন ভীষণভাবে খারাপ হয়ে যায়। তিনি মনে মনে চেয়েছিলেন তার জেলের মেয়াদ যদি আরও চার-পাঁচ দিন বেড়ে যেত, তবে বেশ ভালো হত।  কিন্তু কেন সালমান আরও কয়েক দিন জেলে থাকতে চেয়েছিলেন? 

সম্প্রতি রিয়্যালিটি শোয়ের ‘অ্যালায়েন্স’ এর মঞ্চে হাজির হয়ে এই রহস্যের জট খুলেছেন সালমান নিজেই। 
ছোট ভাই সোহেল খান শোয়ের ভেতরে দীর্ঘকাল আটকে থেকে কিছুটা মনমরা হয়ে পড়েছিলেন। ভাইকে চাঙ্গা করতেই নিজের পুরনো স্মৃতি উসকে দেন তিনি।

জামিন মিলবে না জেনেও জেলে থাকাকালীন তাকে প্রতিদিন জামিনের শুনানির জন্য আদালতে যেতে হতো বলে জানান সালমান। তাই নিজে নিজে ভাবতেন, বারবার আদালতে গিয়ে আবার ফিরে আসার কোনও মানে হয়না। এর চাইতে জেলে চুপ করে বসে থাকাই ভালো।  
আদালতে সালমান কে কোন রাজকীয় খাবার দেয়া হতো না। খাওয়ার জন্যে তাকে দেয়া হতো সীমিত পরিমাণে ডাল আর জল। এই সামান্য খাবার খেয়েই ঘন্টার পর ঘন্টা জেলের ভেতরেই শরীর চর্চা শুরু করেন সালমান। কড়া রুটিন মেনে দিন অতিবাহিত করতেন এ অভিনেতা। 
এই কড়া রুটিন কয়েকদিনের মধ্যেই তার শরীরে অদ্ভুত পরিবর্তন নিয়ে আসে। শুধুমাত্র ডাল আর পানি খেয়ে সালমনের শারীরিক গঠন এতটাই বদলে যায় যে, তিনি একবারে চাঙ্গা ও পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠেন! সেইসময় তার নিজের চেহারা দেখে নিজেকেই অবাক হতে হয়েছিলো। আর তখনই তার মাথায় আসে এক উদ্ভট চিন্তা!
“যদি আর মাত্র চার-পাঁচটা দিন এই জেলের কড়া নিয়মে থাকা যেত, তবে তার ফিটনেস একদম নিখুঁত হয়ে যেত!”

জেলের এক সহ-বন্দি সালমানকে বের হতে দেখে বলেই ফেলেছিলেন, “ভাই, আপনি যাবেন না!” সলমন হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, “সে কী! যাব না মানে?”

জেলের ভেতর টা অনেক আরামদায়ক এমন ভাবলে ভুল হবে। ৫০ থেকে ৭০ জন একটি ছোট ঘরে বন্দি থাকতেন। একটি মাত্র ওয়াশরুম সবাই মিলে ব্যবহার করতেন, যেখানে জমে থাকত নোংরা এবং দেখা যেতো টিকটিকি। 
সব কষ্ট আর খারাপ পরিবেশের মধ্যেও শুধু নিজের ফিটনেসের দিকে নজর দিয়ে সালমান খান যেভাবে তার সময়টাকে কাজে লাগিয়েছিলেন, সেটাই এই গল্পের মূল আকর্ষণ। 

—জা.অর্থনীতি/এসআরএস