বিজিবির অভিযানে ভারতীয় শাড়ি ও মাদক জব্দ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক তিনটি বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ১৩২টি স্বর্ণকাতান শাড়ি, ২১ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা এবং ১১৭ বোতল ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত এসব পণ্যের মোট সিজার মূল্য ১৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০ টাকা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ১৫ বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে কাশিপুর, গোড়কমন্ডল ও অনন্তপুর বিওপির টহলদল কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক তিনটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

এর মধ্যে সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে কাশিপুর বিওপির আওতাধীন ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম অনন্তপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা তাদের বহনকৃত মালামাল ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৩২টি ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ি জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া একই দিন রাত ৯টা ১০ মিনিটে গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষ্ণনন্দন বকসী এলাকায় এবং মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন নাগেশ্বরী উপজেলার নাগরাজ সীমান্ত এলাকায় পৃথক আরও দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বিজিবির ধাওয়া খেয়ে চোরাকারবারীরা মালামাল ফেলে পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে ২১ দশমিক ৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ১১৭ বোতল ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়।

১৫ বিজিবি জানায়, জব্দকৃত স্বর্ণকাতান শাড়ির সিজার মূল্য ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, গাঁজার মূল্য ৭৫ হাজার ২৫০ টাকা এবং ইস্কাপ সিরাপের মূল্য ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট সিজার মূল্য ১৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০ টাকা। এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারীদের শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, 'দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।'

—জা. অর্থনীতি/এলএটি