কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে আকস্মিক জলাবদ্ধতা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, সেই সঙ্গে হাওরজুড়ে দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কালনী নদীর পানি ২.৪৭ মিটারে রেকর্ড করা হয়েছে, যা প্রাক-বর্ষা বিপৎসীমার (৫.৩৫ মিটার) ২৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ইটনা স্টেশনে ধনু-বৌলাই নদীর পানি ৩.১৪ মিটার এবং চামড়াঘাট স্টেশনে ধনু নদীর পানি ২.৭৫ মিটারে অবস্থান করছে। পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ধারাবাহিক বৃদ্ধির কারণে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনেক পরিবারে মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র স্রোতের কারণে জেলেরা নদী বা হাওরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, ফলে তাদের দৈনিক আয় একেবারেই বন্ধ। এদিকে অবিরাম বৃষ্টির পানি জমে হাওরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট, হাটবাজার এবং বসতবাড়ির চারপাশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নদী ও হাওরের পানি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী মানুষ গবাদিপশু এবং ঘরবাড়ি নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, "হাওরের নদ-নদীতে প্রতিদিন পানি বাড়ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং এই মুহূর্তে বড় কোনো বন্যার সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস নেই। তবে যেহেতু প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।"
দ্রুত এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং সরকারি বা বেসরকারিভাবে জরুরি ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছালে হাওরবাসীর দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি