সিলেট প্রতিনিধি: টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং অন্যান্য নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে টানা বর্ষণে পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, আগামী ৩-৪ দিন মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সীমান্তঘেঁষা কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা কম। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে জকিগঞ্জে। সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগজুড়ে বৃষ্টিপাত ব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বেলার তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে নির্বিচারে টিলা কাটার কারণে ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে এবং ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিলেটে টিলা ধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩৮৬টি পরিবার চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, "জেলায় ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং চলছে। সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি