ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা, যানজটে নাকাল পৌরবাসী
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব সড়কেই এখন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট। নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে সৃষ্ট যানজটে নাকাল হচ্ছে মানুষ।

দুর্ঘটনাপ্রবণ ও বিপজ্জনক এসব হালকা যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবে চিত্র উলটো।

জানা গেছে, গত অর্থবছরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন (লাইসেন্স) দেওয়া রয়েছে ৪৪৪৭টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার। বৈধ-অবৈধ মিলে এখন প্রায় ২০ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটো ও চার্জার রিকশা চলাচল করছে পৌর শহরে। 

ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় সড়কের মধ্যেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এই সড়কের মতো ঠাকুরগাঁও শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের ১০টি স্থানে ৩০টির বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এর সব কটিই অবৈধ। এভাবে যত্রতত্র স্ট্যান্ডের কারণে পৌরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা যায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঠাসা। যাত্রী দেখলেই চালকরা যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ছে।

আবার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীর আশায় অটোরিকশাগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ সারির কারণে পথচারীদের সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে যাওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। 

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা ও রোড রেলগেট এলাকায় সেখানে অটোরিকশার জ্বালায় রাস্তা পারাপার করতে প্রায় ৫/৭ মিনিটও লেগে যাচ্ছে বেশির ভাগ সময়ে।

ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা মোড় এলাকায় চারদিক থেকে চারটি সড়ক এসে মিলেছে। প্রায় সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পুরোটা সময়ই থেমে থেমে যানজট থাকে। শহরের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র এই চৌরাস্তা থেকে স্বর্ণকার পট্টি, কালিবাড়ি, আমতলী, পূর্ব চৌরাস্তার দুইপাশেই বিভিন্ন বিপণিবিতান রয়েছে। এই এলাকার ছোট সংযোগ সড়কগুলোয় কেনাকাটা করতে এসে দীর্ঘ সময় মানুষকে যানজটে আটকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। 

ঠাকুরগাঁও কালিবাড়ি কাচা বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন মিলন সরকার যানজটে আটকে পড়ে বিরক্ত হয়ে তিনি বললেন, পুরো বাজার ঘুরে শাকসবজিসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী কিনতে এক ঘণ্টারও কম সময় লেগেছে। কিন্তু এখন দেখছি বাজার করতে যত সময় লাগে, তার থেকে বেশি সময় রাস্তায় চলে যাচ্ছে। 

কথা হয় চার্জার রিকশাচালক মো. হাসানের সঙ্গে। তিনি জেলার মাদারগঞ্জ থেকে প্রতিদিন শহরে এসে রিকশা চালিয়ে রাতে আবার ফিরে যান।

বৈধ কাগজপত্র না থাকার কথা স্বীকার করে এই রিকশাচালক বলেন, ঠাকুরগাঁও শহরে ভালোই কামাই হয়। কিন্তু যানজটে বেশ সময় নষ্ট হয়। 

শিক্ষক সীমা আকতার বলেন, চার্জার রিকশা আর ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার অটোর যন্ত্রণায় টেকা মুশকিল। আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সকাল ৯টার মধ্যে স্কুলে পৌছাতে হয়। সকালে শহরের চৌরাস্তা দিয়ে যেতে সেখানে আমার ১০/১২ মিনিট আর রোড রেলগেটে ১০/১২ দিন সময় প্রতিদিন নষ্ট হয়। রোড রেলগেটে কোন ট্রাফিক পুলিশ থাকেন না। সেখানে যদি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে যানজট কিছুটা কমবে আশা করছি। এদের জন্য রাস্তা পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বাড়ছে দুর্ঘটনাও।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন- যেমন প্রথমত সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা। বর্তমান অর্থবছরে যে সকল অটো নিবন্ধন করা হবে, এর সাথে চালকদের নির্ধারিত পোশাক দেওয়া হচ্ছে, তা গায়ে পরে গাড়ি চালাতে হবে। যাতে পৌরশহরের চালকদের চেনা যায় এবং চুরি-ছিনতাই কিছুটা রোধ করা যাবে।

তিনি বলেন, শহরের আমতলী থেকে আর্টগ্যালারি পর্যন্ত সড়কে বেরিকেট একপাশ দিয়ে চলাচলে প্রাথমিক কাজ করা হবে। একপাশ দিয়ে অটো ও চার্জার চলার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি অটো ও চার্জার থেকে যাত্রী জনসাধারণকে ডানপাশ দিয়ে উঠা-নামা না করানোর জন্য রেজুলেশন করা হয়েছে, তা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে। যানজট এলাকায় সেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো যানজটমুক্ত রাখতে আমরা চেষ্টা করছি। যাতে যানজটের কারণে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।

—জা.অর্থনীতি/এনজে