কাজ শেষ হতেই ধরেছে ফাটল সড়কে
ছবি সংগৃহীত

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি-দমদমা সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন অংশে ধস ও বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার পাশাপাশি সূতি নদীর তীরে বসানো কংক্রিটের ব্লকগুলো খুলে পানিতে ভেসে যাচ্ছে। জেলা শহরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটির এমন বেহাল দশায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও দুর্ঘটনার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহ্লাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ‘মেসার্স সালাম ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজটি সম্পন্ন করে। নানা জটিলতায় সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালে এসে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও কয়েক মাসের মাথায় সড়কটির প্রায় ৫০০ মিটার অংশ ধীরে ধীরে নদীর দিকে দেবে যেতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে শ্রীপুরের রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কয়েকটি অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে এবং পিচঢালা অংশ ভেঙে নিচে নেমে গেছে। নদী তীর রক্ষায় বসানো কংক্রিটের ব্লকগুলো আলগা হয়ে নদীতে ধসে পড়ছে। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালুর বস্তা ও ভাঙা ব্লক দিয়ে সাময়িক জোড়াতালির চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী ও আবুল খায়ের অভিযোগ করেন, সড়কটি নির্মাণের সময় নদীর পাড়ে বালু-মাটি ফেলে তড়িঘড়ি করে ভরাট করা হয়েছিল। সেই মাটি ভালোভাবে বসার আগেই রাস্তা পাকাকরণ করায় এখন ধস নামছে। এছাড়া শুরু থেকেই কাজের মান এবং ব্লক বসানোর ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম জানান, সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। এখনো জামানতের টাকা থাকায় যতবার ভাঙবে, ততবারই তা মেরামত করে দেওয়া হবে।

শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, "ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে; সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

গাজীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, তিনি ধসে পড়া সড়কটি দুইবার পরিদর্শন করেছেন। খালের পাড়ে ৩০-৩৫ ফুট রাস্তা দেবে গেছে। রাস্তার উল্টো পাশের বাড়িঘরের বৃষ্টির পানি সড়ক গড়িয়ে খালে পড়ার কারণে কিছু ব্লক সরে গেছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে দিয়ে সেখানে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি