সিলেট প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আয়েশা সিদ্দিকা হলের ‘সি’ ব্লকের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলো থেকে ৩৬ জন ছাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
হল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ৩২২-৩২৫ এবং ৪২২-৪২৬ নম্বর কক্ষের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। প্রকৌশলীদের পরামর্শ অনুযায়ী এসব কক্ষকে আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের একই হলের অতিথি কক্ষ, রিডিং রুম ও টিভি রুমে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের নিরাপদ কক্ষে স্থানান্তরের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২২ সাল থেকেই ভবনটির ‘সি’ ব্লকে ফাটল ছিল। তবে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ফাটল আরও বড় হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়ে যায়। সিলেট ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, হলটির নিচের অংশে আগে একটি পুকুর ছিল। পরবর্তীতে সেখানে ভবন নির্মাণের কারণে মাটি ধীরে ধীরে দেবে যাওয়ায় দেয়াল ও বিমে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত হল প্রাধ্যক্ষ ও ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা দপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে উপাচার্য ভবনটি পরিদর্শন করেছেন এবং বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, নিরাপদ আবাসনের দাবি জানিয়ে অনেক শিক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
—জা.অর্থনীতি/এনজে