রহস্যজনকভাবে কেটে দেওয়া হচ্ছে শাবিপ্রবি হলের শিক্ষার্থীদের জামাকাপড়!

জাতীয় অর্থনীতি অনলাইন: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সৈয়দ মুজতবা আলী হলে রাতের আঁধারে রহস্যজনকভাবে কেটে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড়। এর আগে একই হলের একই তলার ওয়াশরুমে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তিনটি বিড়াল। কে বা কারা এসব ঘটাচ্ছে, তা শনাক্ত না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে আবাসিক শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের তৃতীয় তলার বারান্দায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাপড় কাটা হয়। প্রায় দুই মাস আগেও কয়েক দফায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তারা। আবাসিক শিক্ষার্থীদের শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য কাপড় রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করে দেয় দুর্বৃত্তরা।

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় এবং বর্তমান সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর অবস্থান কেবল সিঁড়িমুখী হওয়ায় অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বারবার ঘটে যাওয়া এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যজনক ঘটনার সঠিক তদন্ত, সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য হল প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাকারিয়া আলম বলেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো আমাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। কাপড় কাটার ঘটনাটি সাময়িকভাবে মিটে গেলেও, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব না হলে তিনি আমাদের সঙ্গেই হলে অবস্থান করার সম্ভাবনা থাকবে, যা ভবিষ্যতে আমাদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

ওই হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. তৌফিক বলেন, এমন ঘটনা আমাদের হলে (সৈয়দ মুজতবা আলী) বিশেষ করে আমাদের এই তৃতীয় তলায় মাঝে-মধ্যেই ঘটছে। এতদিনে কোনো সমাধানে আসে নাই। যেহেতু বিষয়টা সবার মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে আশা করছি প্রশাসন দ্রুত এর সমাধান করবে। আর একজনের এতগুলো কাপড় একবারে নষ্ট হয়ে যাওয়া কতটা সমস্যার হতে পারে আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তারা অনুমান করতে পারি।

সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি আছি, আমার সহকারী প্রভোস্ট মঞ্জুরুল হায়দারও হলে আছেন। ঘটনা জানার পরপরই আমরা চলে এসেছি। এখানে একসময় ক্যামেরা ছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই সেগুলো খুলে ফেলা হয়েছিল। মাস দুয়েক আগেও এ রকম জামা কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তখন আমরা মিটিং করে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা চেয়ে প্রশাসনের কাছে ফাইল পাঠিয়েছিলাম। আমাদের ফাইলটি চলমান আছে। আমরা দ্রুতই ক্যামেরা পেয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে এক শিক্ষার্থীর বেশি জামা কাটা পড়েছে। তাই হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’

প্রভোস্ট বলেন, ‘ওই ব্লকে আমার মনে হয়, বিকৃত মানসিকতার কেউ আছে, যে এই কাজগুলো করছে। যদি কেউ তাকে ধরতে পারে, তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আমরা প্রতিদিন তিন বেলা করে হলে আসছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের প্রায়োরিটি।’

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ