খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে ফুটবল ঘিরে বইছে উৎসবের আমেজ। তরুণদের উদ্দীপনা, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর সাংস্কৃতিক আবহে শুরু হয়েছে ত্রিপুরা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার পশ্চিম গোলাবাড়ি ত্রিপুরা পাড়ার ঠাকুরছড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
“তরুণের শক্তি, খেলাধুলার গতি এগিয়ে যাক ত্রিপুরা সমাজের ঐক্য ও প্রগতি” প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে খাগড়াছড়ি ও আশপাশের এলাকার মোট ২৮টি দল। বাংলাদেশ ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদ (বিটিজেকেএস), খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখা এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও শুভ উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ফলেন ময় ত্রিপুরা।
টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক সোহাগ ত্রিপুরা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলে। সুস্থ বিনোদন ও ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- মিহির কান্তি ত্রিপুরা, নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন, রাম কুমার ত্রিপুরা, জ্যোতিষ বসু ত্রিপুরা, রেভিলিয়াম রোয়াজা এবং খঞ্জন জ্যোতি ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গঠনে ক্রীড়াচর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ত্রিপুরা সমাজে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে এবং মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এরপর টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইমাং বাকসা ক্লাব ও বাঙালকাটি কিং ইলেভেন। খেলা উপভোগ করতে মাঠে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক।
আয়োজকরা জানান, অংশগ্রহণকারী ২৮টি দলকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে লিগ পদ্ধতিতে খেলা পরিচালনা করা হবে। টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং ত্রিপুরা সমাজের ঐক্য ও প্রগতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
—জা. অর্থনীতি/এনজে