জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সামনে এবার বড় শাস্তির শঙ্কা। জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি। তবে নিজের ভুল স্বীকার করায় সেই শাস্তি কমে তিন মাসে নেমে আসতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এমন শাস্তির মুখে পড়তে পারেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই তারকা? আর সত্যিই কি কয়েক মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে?
ঘটনার সূত্রপাত পর্তুগাল জাতীয় দলের শিবিরে। গত মাসে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর দলের শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো। তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের হয়ে নেশনস লিগে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিপক্ষে সেই ম্যাচে পর্তুগাল চার-দুই গোলে জয় পায়। কিন্তু ম্যাচটিতে রোনালদোকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগিজ এই তারকা। তবে শিবির ছেড়ে যাওয়ার পর নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতাপ প্রকাশ করেন রোনালদো। সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমাও চান তিনি। একই সঙ্গে জরিমানা করা হলে তা মেনে নেওয়ার কথাও জানান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ক্ষমা চাইলেই কি শাস্তি এড়াতে পারবেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার?
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, এর উত্তর পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। ফেডারেশনের ১৬০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যথাযথ কারণ ছাড়া জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড় অনুশীলন, ম্যাচ কিংবা দলের অন্য কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। পাশাপাশি জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু জরিমানা দিয়ে শেষ নাও হতে পারে। শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, রোনালদোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তও আসতে পারে। আর সেই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’র আইন বিশেষজ্ঞ গঞ্জালো আলমেইদার মতে, রোনালদোর শাস্তির মেয়াদ কমানোর সুযোগ রয়েছে। ফিফার বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা এই আইন বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার সময় থেকেই তাঁর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গণনা করা হয়েছে বলে বিবেচনা করা হতে পারে।
আলমেইদার মতে, প্রথমে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কাউন্সিল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। এরপর রোনালদোকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে। সবকিছু বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এবার আসা যাক শাস্তি কমানোর বিষয়টিতে। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ২৪৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো খেলোয়াড় তদন্তাধীন ঘটনার কথা স্বীকার করলে শাস্তির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা অর্ধেক কমানো যেতে পারে। তবে সেই স্বীকারোক্তি হতে হবে সম্পূর্ণ নিঃশর্ত। পাশাপাশি স্বীকারোক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও কোনো সংশয় থাকা চলবে না।
আইন বিশেষজ্ঞ আলমেইদার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো নিঃশর্তভাবে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তাই এই নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা কমে তিন মাস হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞাও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। শাস্তির বিষয়টি নির্ভর করছে ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিধির প্রয়োগের ওপর।
রোনালদোর মতো অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়ের জন্য জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার ঘটনা তাই এখন বড় আলোচনার বিষয়। একদিকে রয়েছে শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী শাস্তির আশঙ্কা, অন্যদিকে নিজের ভুল স্বীকার করে শাস্তি কমানোর সম্ভাবনা।
সব মিলিয়ে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সর্বোচ্চ ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। আর আইন বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শাস্তি কমানোর সুযোগ কাজে লাগলে সেই মেয়াদ তিন মাসে নেমে আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।
ভুল স্বীকারে কি বাঁচবেন রোনালদো?
বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও কি শাস্তি এড়াতে পারবেন না? পর্তুগালের জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা। তবে রোনালদোর জন্য রয়েছে একটি সুযোগ। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় নিঃশর্তভাবে নিজের ভুল স্বীকার করলে শাস্তির সীমা অর্ধেক কমানো যেতে পারে। এই নিয়ম প্রযোজ্য হলে রোনালদোর সম্ভাব্য শাস্তিও কমতে পারে। কিন্তু এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। প্রশ্ন হচ্ছে, নিজের ভুল স্বীকার করে কি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাবেন ফুটবলের এই মহাতারকা?
—জা. অর্থনীতি/এলএটি