সাম্বা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

ব্রাজিল নামটা উচ্চারণ করতেই কানে আসে আরেকটা শব্দ সাম্বা! ব্রাজিল আর সাম্বা যেন একাকার হয়ে গেছে! অথচ দেশটির ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠা এ সংস্কৃতি এসেছে আফ্রিকা থেকে। এটা লাতিন কিংবা ব্রাজিলের তৈরি করা কোনো শিল্প নয়। তবে আফ্রিকান ধর্মীয় ঐতিহ্য পূর্ণতা পেয়েছে ব্রাজিলের ছোঁয়ায়। সময়ের পরিক্রমায় সাম্বা কার্নিভাল হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম আর সেই সাম্বা ফুটবলেও চলে এসেছে।

ব্রাজিলের খেলা মানেই গ্যালারিজুড়ে সাম্বার প্রদর্শনী। মাঠে সেরা ‘ফেস্টিভাল’। ফুটবলারদের ছন্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গ্যালারিতে চলে এ শৈল্পিক পরিবেশনা। সঙ্গতকারণেই চোখে আধুনিক সাম্বার শুরুটা হয়েছিল বিংশ শতাব্দীতে। লাতিন সংগীতের যে মাদকতা, ছন্দ তার পুরোটাই চলে যায় গ্যালারিতে। ধারণ করে এগিয়ে গেছে সাম্বা। সঙ্গে আফ্রিকান ব্যালে নৃত্যের সংমিশ্রণ হয়েছে প্রতিনিয়ত। সব মিলিয়ে তবে ১৯১৭ সালে সাও পাওলোর একদল তরুণ পকেটের পয়সা খরচ না করে ‘পেলো টেলিফোন’ নামের একটি গ্রুপ না শুধু অন্যরকম এক ‘ফিউশন’ তৈরি হয়েছে সাম্বায়।

গড়লে হয়তো সাম্বা আফ্রিকানদের হয়েই থাকত। ওই বছরই সত্যিকার অর্থে সাম্বার যাত্রা শুরু হয় পেলের দেশে। এরপর সাম্বা পারফরমারদের পাশে যোগ দিয়েছেন গায়ক-গায়িকারাও। বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণ পূর্ণতা দিয়েছে সাম্বাকে। কিন্তু ১৯৫০ সালে এসে নতুন ছন্দ পায় সাম্বা। সঙ্গে যোগ হয় সংগীতের আরেক ঘরানা জ্যাজ! সাম্বার জনপ্রিয়তা তখনই এ উন্মাদনাটাকেও বেশ কাজে লাগিয়েছে ব্রাজিলিয়ানরা। তখন থেকেই দেশটিতে গড়ে উঠতে থাকে সাম্বা স্কুল।

যেখানে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। অ্যাকাডেমিকভাবে শেখানো হয় সাম্বার নানা কৌশল। এখন তো পুরো বিশ্ব থেকেই সাম্বা শেখার জন্য ছুটে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সময়ের পরিক্রমায় এখন সাম্বা হয়ে উঠেছে ইউনেস্কোর রায়ে বিশ্ব সংস্কৃতির অংশ। আর প্রতি বছরই যখন ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাম্বা কার্নিভাল’ তখন লাখো পর্যটক হাজির হয়ে যান দেশটিতে।

শহরের রাজপথগুলোয় চলে উৎসব। এভাবে ফুটবল মাঠেও থেকেছে সাম্বার উপস্থিতি। ব্রাজিলের ফুটবল সংগীত ‘বেলিনি সাম্বা ডি জেনিরো’র পুরোটাতেই ওই ছন্দের কথা বলা হয়েছে। দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার রোনালদো বলছিলেন, ‘আহ! সাম্বার কথা মনে হলেই শরীর নেচে ওঠে। আমরা ফুটবল আর সাম্বার ছন্দের মধ্যেই বেড়ে উঠেছি। ঠিক এভাবেই শেষদিন পর্যন্ত আনন্দ করে যেতে চাই।’