মাছের বাজারে চড়া দাম, ক্রেতা কমে হতাশ বিক্রেতারা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জামালপুর প্রতিনিধি: ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’-প্রচলিত এই প্রবাদ যেন ক্রমেই বাস্তবতা হারাচ্ছে। জামালপুরের ইসলামপুরে মাছের চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমেছে, বিক্রিও কমেছে মাছের। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মাছের বাজারে অস্বস্তি থাকলেও তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে সবজির বাজারে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ইসলামপুরের ঠাকুরগঞ্জ নিত্যবাজার ও পৌর এলাকার বিজয় চত্বর সকাল বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৫০০, কাতলা ২৮০ থেকে ৫০০, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৮০, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২০ এবং দেশি কৈ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চাষের শিং ৫০০ থেকে ৬০০, টেংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ এবং কোরাল ৫০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দেশি প্রজাতির মাছের সরবরাহ কম। ফলে চাষের মাছের চাহিদা ও দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে ক্রেতারা মাছ কেনা কমিয়ে দেওয়ায় বিক্রিও কমেছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা সোহেল বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে সবজির দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও মাছের বাজারে আগুন। নিজেদের নদ-নদীর মাছও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন।’

আরেক ক্রেতা আলমাস বলেন, ‘এক-দুই বছর আগেও প্রতি কেজি চিংড়ি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি। এখন সেই মাছের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। তাই পছন্দের মাছ না কিনে বাধ্য হয়ে তেলাপিয়া ও পাঙাশ কিনতে হচ্ছে।’ ক্রেতা সবুজের অভিযোগ, নদ-নদীর ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও বাড়ছে।

অন্যদিকে পাইকারি সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০, পটোল ৩০, ঢ্যাঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৪০, করলা ৪০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৫৫, গাজর ১২০ এবং শীতকালীন শিম ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং চারটি লেবু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে এসব সবজির দাম পাইকারির তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি।

ঠাকুরগঞ্জ নিত্যবাজারের পাইকারি আড়তদার তোতা মিয়া বলেন, পণ্যের দাম বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তেমন কিছু করার নেই। তারা যে দামে পণ্য কিনে আনেন, তার সঙ্গে সামান্য লাভ যোগ করে বিক্রি করেন।

মুরগির বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫, লেয়ার ৩৩০ এবং সোনালি মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও মাছের চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। বিক্রি কমে যাওয়ায় হতাশ মাছ ব্যবসায়ীরাও।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি