মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীন করেরহাট ফরেস্ট চেক স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকারিতা হারিয়ে একটি অঘোষিত ‘ঘুষের টোল প্লাজায়’ পরিণত হয়েছে। বনজসম্পদ পরিবহন তদারকি ও অবৈধ কাঠ পাচার রোধে স্টেশনটির মূল দায়িত্ব থাকার কথা থাকলেও এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি অসাধু সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এই চেক স্টেশনে প্রকাশ্যেই চলছে দুর্নীতির মহোৎসব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বনজদ্রব্য ও কাঠ বহনকারী ট্রাক থেকে কাগজপত্রের বৈধতা যাচাইয়ের নামে নিয়মিত চাঁদাবাজি করা হয়। ট্রানজিট পাস (টিপি) থাকার পরও প্রতিটি কাঠবোঝাই গাড়ি থেকে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। এছাড়া টিপি ছাড়া অবৈধভাবে কাঠ পাচারকারী (ওটি) ট্রাকপ্রতি ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নেওয়া হয়।
মাঠপর্যায়ের চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈধ বালুবাহী ট্রাকপ্রতি ৪০০ টাকা, অবৈধ বালুবাহী ড্রাম ট্রাকপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা, বাঁশবাহী ট্রাকপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং উলুফুলের গাড়ি থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও বন কর্মকর্তার চাহিদামতো টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রেখে মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, টাকা না দিলে করেরহাট চেক স্টেশনের এক ইঞ্চি জমিও পার হওয়া সম্ভব নয়।
সম্প্রতি জিলতলী এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের পর জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ করেরহাট এলাকা থেকে বালুভর্তি ৪টি ড্রাম ট্রাক আটক করে। প্রশ্ন উঠেছে, বন বিভাগের এই চেকপোস্ট ও ফরেস্ট স্টেশন পার হয়ে কীভাবে এসব অবৈধ ট্রাক গন্তব্যে পৌঁছাল?
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে করেরহাট চেক স্টেশন অফিসার সুরঞ্জিত চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে করেরহাট চেক স্টেশনে গাড়ি থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মারুফ হাসান বলেন, "আমি তো আগেই নির্দেশনা দিয়েছি বিট অফিসারদের, যাতে কোনো অবৈধ গাড়ি এখান থেকে বের হতে না পারে। এই গাড়িগুলো কীভাবে বের হলো, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।"
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, করেরহাট চেক স্টেশনে চলা এই দীর্ঘমেয়াদী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
