নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত কেমিক্যালের হদিস দিতে পারছে না সিম ফেব্রিক্স, অন্যদিকে ৮১.৬ টন কেমিক্যালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ এম আর ট্রেডার্স—বড় ধরনের শুল্ক-কর ফাঁকির আশঙ্কায় তদন্তে কাস্টমস গোয়েন্দা। বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানিকৃত কেমিক্যাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। অভিযানে মেসার্স এম আর ট্রেডার্স নামীয় প্রতিষ্ঠানের গুদামে ‘সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট’-সহ প্রায় ৮১.৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুদ পাওয়া যায়। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুদের স্বপক্ষে কোনো দলিলাদি প্রদর্শন করতে পারেনি। ফলে মজুদকৃত পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একইসাথে অভিযোগ যাচাইয়ের লক্ষে সিম ফেব্রিক্স লিমিটেড-এ আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত ১৭ অক্টোবরের মধ্যে ভারত থেকে ৪৫ মে. টন ‘সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট’ বন্ড সুবিধায় আমদানি করলেও সংশ্লিষ্ট আমদানিকৃত পণ্যের সরজমিনে দেখাতে পারেনি। ফলে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত কেমিক্যাল উৎপাদন কাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
একদিকে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানে আমদানিকৃত কেমিক্যালের হদিস নেই, অন্যদিকে নন-বন্ডেড গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালের মজুদ অথচ বৈধ কাগজপত্র নেই—এই দুই ঘটনার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র এবং সরকারের শুল্ক-কর ফাঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, আটককৃত কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাতকরণ এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ
