কামরুল ইসলাম, মিরসরাই (চট্টগ্রাম): জমিতে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না দেশের কৃষক, কিন্তু চট্টগ্রামের মিরসরাই-সীতাকুণ্ড-সন্দীপ চ্যানেল দিয়ে অবাধে অবৈধভাবে সার যাচ্ছে মিয়ানমারে। মিরসরাইয়ের সমুদ্র উপকূল হয়ে উঠেছে পাচারকারীদের জন্য নিরাপদ রুট। শুধু সার নয়, এই রুট দিয়ে একটি চক্র পাচার করছে ডিজেল ও সিমেন্ট।
বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে মিরসরাইয়ে গড়ে উঠেছে দে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এনএসইজেড)। এই জোন ঘিরে নির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়ক। এ সড়ক ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সার, ডিজেল ও সিমেন্টের মত মূল্যবান পণ্য নিরাপদে পাচার করছে চক্রটি।
জানা গেছে, দেশের কৃষকদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ করে থাকে সরকার। ভর্তুকিতে বরাদ্দ সার পাচার হচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেটের মত নেশাদ্রব্যের বিনিময়ে। যে ট্রলারে সার মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বিনিময়ে সে ট্রলারেই বাংলাদেশে আসছে ইয়াবার চালান।
সর্বশেষ, গত ৩১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের চল্লিশ গেইট নামক এলাকা থেকে ২টি ট্রাক থেকে ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সার পাচারকালে জব্দ করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এসময় আটক করা হয় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৮ জনকে।
এছাড়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৯৭৫ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ৩ জনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের ব্যবহৃত তিনটি ট্রাক ও একটি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করা হয়। তবে কোর্সগার্ডের উপস্থিতিতে পালিয়ে যায় মূল হোতারা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে ৬০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে কোস্টগার্ড। এ সময় পাচার কাজের ব্যবহৃত দুটি ট্রাকসহ আটক করা হয় দুজনকে। গত ১০ সেপ্টেম্বর বাঁশবাড়িয়া ও ১ সেপ্টেম্বর বাড়বকুণ্ড উপকূল থেকেও সার জব্দ করে কোস্ট গার্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সার, ডিজেল, সিমেন্ট ইত্যাদি পণ্য পাচারের জন্য মিরসরাই- সীতাকুণ্ড-সন্দীপ চ্যানেলটি ব্যবহার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিযানে জব্দ করা চালানগুলো থেকেই বোঝা যায়, এই রুটটি এখন নিরাপদভাবে ব্যবহার হচ্ছে পণ্য পাচারের কাজে।
মিরসরাই কোস্টগার্ডের পিওআর রবিউল হোসেন বলেন, কোস্টগার্ডের তৎপরতায় পাচার কিছুটা কমেছে। সাগরপথে পণ্য পাচার রোধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মিরসরাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবহার করে একটি চক্র সার পাচার করছে বলে তথ্য রয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে পুলিশ। প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাচার রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
