রিপন গোয়ালা, ময়মনসিংহ: রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই ধানের ক্ষতিকর পোকা দমনে সফলতা পাচ্ছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে ধানের মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা দমন করছেন তারা। এতে কমছে উৎপাদন ব্যয়, বাড়ছে কৃষকের লাভ। পাশাপাশি নিরাপদ থাকছে পরিবেশ ও খাদ্য।
উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের ধানক্ষেতে বাঁশের খুঁটিতে ঝুলছে প্লাস্টিকের বয়াম। এর ভেতরে বিশেষ উপাদান ব্যবহার করে আকৃষ্ট করা হচ্ছে ক্ষতিকর পুরুষ পোকা। স্ত্রী পোকার গন্ধের অনুকরণে তৈরি এই উপাদানের আকর্ষণে পুরুষ পোকা বৈয়ামে ঢুকে সাবান পানিতে পড়ে মারা যায়। ফলে পোকামাকড়ের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। এ পদ্ধতিই পরিচিত সেক্স ফেরোমন ফাঁদ নামে।
কৃষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারে ধানের ক্ষতিকর মাজরা পোকা দমন হচ্ছে। রাসায়নিক কীটনাশক কিনতে হচ্ছে না বলে উৎপাদন খরচও কমেছে। তিনি নিজে এ পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন। পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষক হানিফ মিয়া বলেন, প্রথমে এ পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ ছিল। তাই তিনি রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু অন্য কৃষকদের সাফল্য দেখে বুঝতে পেরেছেন, ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করলে অর্থ ও শ্রম দুটিই সাশ্রয় হতো। আগামী বোরো মৌসুমে তিনি এ পদ্ধতি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী আকছার খান জানান, প্রতি কাঠা জমিতে চারটি ফাঁদ স্থাপন করতে হয়। প্রতিটি ফাঁদ তৈরিতে খরচ পড়ে প্রায় ৪০ টাকা। ধান রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ফাঁদ স্থাপন করলে ধানকাটা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানি চৌহান জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে কৃষকদের এ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগামী বোরো মৌসুমে ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ পদ্ধতি।
