শেষ হলো ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম ৬.০

প্রযুক্তি ডেস্ক: মার্কেটিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের বিচারবুদ্ধি ও আস্থার মেলবন্ধন নিয়ে রাজধানীতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম ৬.০’। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এই এবারের আসরের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—“আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন মার্কেটিং: হিউম্যান + টেক”।

ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিলের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের কো-হোস্টে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ও এসিআই মটরস লিমিটেড। অনুষ্ঠানে আধুনিক মার্কেটিংয়ের জনক প্রফেসর ফিলিপ কটলারসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের ৫৪টি দেশের শীর্ষস্থানীয় মার্কেটিং পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও উদ্যোক্তারা ভার্চুয়ালি ও সরাসরি অংশ নেন।

দুই দিনের এই আয়োজনে মোট ১০টি কিনোট সেশন, ২টি প্যানেল ডিসকাশন এবং ২টি কেইস স্টাডি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সিইও সাজিদ মাহবুব। এ ছাড়া ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মুজিবুল হকসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।

ফোরামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিলের উদ্যোগে ‘দ্য ঢাকা ডিক্লারেশন’ (Marketing for Global Good: Y2030 and Beyond) শীর্ষক ঐতিহাসিক বৈশ্বিক ঘোষণা। এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ), আফ্রিকান মার্কেটিং কনফেডারেশন এবং ইউরোপিয়ান মার্কেটিং কনফেডারেশনের যৌথ অংশগ্রহণে এই ঘোষণা গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক কল্যাণে বিপণনচর্চার প্রসার ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অঙ্গীকার করা হয়।

কিনোট সেশনগুলোতে আধুনিক মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রফেসর ফিলিপ কটলার, হারমাওয়ান কারতাজায়া, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ ফরহাত আনোয়ারসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা। ভার্চুয়াল বক্তব্যে ফিলিপ কটলার বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবসার দক্ষতা ও বিক্রির পূর্বাভাস বাড়াতে সহায়ক হলেও তা মানুষের সৃজনশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প হতে পারে না। প্রযুক্তির ওপর অন্ধভাবে নির্ভর না করে ধাপে ধাপে ও দায়িত্বশীলভাবে এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

প্যানেল আলোচনাগুলোতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রির মেলবন্ধন এবং নৈতিক বিপণন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরিশেষে, নৈতিক ব্যবসা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়লার সফল সমাপ্তি ঘটে।