জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: দেশে রান্নার গ্যাসের বাজার ক্রমেই এলপিজিনির্ভর হয়ে উঠছে। বাড়ছে চাহিদা, বাড়ছে আমদানিও। তবে এই বিশাল বাজারে প্রতিযোগিতা কতটা? এখন পর্যন্ত দেশে ৩৩টি কোম্পানি এলপিজি আমদানির অনুমোদন নিলেও বাস্তবে সক্রিয় মাত্র ১৬টি। আর বাজারে সাত কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে এলপিজির ৮৬% বাজার। পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর থেকেই রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগে গত এক দশকে ৩৩টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি ও বাজারজাতের অনুমোদন নেয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এলপিজি আমদানি হয়েছে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৫ মেট্রিক টন। অথচ অনুমোদিত বার্ষিক বোতলজাতকরণ সক্ষমতা ৬৩ লাখ ৭৯ হাজার টন। গত অর্থবছরের তুলনায় এলপিজি আমদানি কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।
গত অর্থবছরে আমদানি করা এলপিজির ৮৬ শতাংশই ছিল মাত্র সাতটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে।
আমদানিতে শীর্ষে ছিল ইউনাইটেড আইগ্যাস এলপিজি। কোম্পানিটি আমদানি করেছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৪ টন, যা মোট আমদানির ১৭ দশমিক ০২ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি আমদানি করেছে ২ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টন। আর ওমেরা এলপিজি আমদানি করেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৭৫৫ মেট্রিক টন।
এছাড়া বিএম এনার্জি, যমুনা স্পেসটেক, পেট্রোম্যাক্স ও সান গ্যাস ছিল আমদানিতে শীর্ষ সাত কোম্পানির তালিকায়।
অন্যদিকে, দুই অর্থবছরে প্রায় ৯৩ শতাংশ আমদানি কমেছে বসুন্ধরা এলপিজির। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টন, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেমে এসেছে মাত্র ১০ হাজার ২৭ টনে।
তবে রান্নার গ্যাসের আমদানি কমলেও শিল্প ও পরিবহন খাতে এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতে আমদানি বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং অটোগ্যাসে বেড়েছে ২০ শতাংশ।
বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে এলপিজি মজুদ সক্ষমতা ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন। আর রান্নার এলপিজির ৯৯ শতাংশ সরবরাহ করছে বেসরকারি খাত। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসির অধীন এলপি গ্যাস লিমিটেডের অবদান মাত্র ১ শতাংশ।
রান্নার গ্যাসের বাজারে চাহিদা বাড়লেও আমদানি সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত। অন্যদিকে, ৯৯ শতাংশ সরবরাহই বেসরকারি খাতের । ফলে এলপিজির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
