নির্বাচিত মেয়র শাহাদাত এবার পূর্ণকালীন প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: আদালতের রায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র হওয়া বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনকে এবার সংস্থাটির পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নির্বাচিত মেয়র হিসেবে মেয়াদের শেষ সময় নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে প্রশাসকের দায়িত্ব পেলেন তিনি।

গতকাল রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৪ ধারার ৩ উপধারা অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২২ ফেব্রুয়ারি। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পরিষদের প্রথম সভা  হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে ৫ বছর।

তবে মেয়র হিসেবে নিজের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বলে দাবি করে আসছিলেন শাহাদাত হোসেন। তার যুক্তি, আদালতের রায়ে মেয়র ঘোষণার পর শপথ নেওয়ার তারিখ থেকে মেয়াদ গণনা করতে হবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেননি।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শাহাদাত বলেছিলেন, শপথ নেওয়ার দিন থেকে ৫ বছর তার মেয়াদ। এ বিষয়ে কারও আপত্তি থাকলে হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শও দেন। এর প্রায় আট মাস পর তাকেই পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার। গত মার্চেও তাকে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তখন নিয়োগের আদেশ জারি হয়নি। চসিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট। ওই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র হিসেবে শপথ নেন রেজাউল। ২৩ ফেব্রুয়ারি হয় নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল বাতিলের দাবিতে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত। মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন মামলার রায়ে রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। একইসঙ্গে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে ১০ দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেন। পরে ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করে। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে অপসারণ করা হয়। একই বছরের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলামকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।

এরপর আদালতের রায়ে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া শাহাদাত হোসেন এবার সরকারের নতুন আদেশে একই সংস্থার পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন। দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতেও সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল। এবার চট্টগ্রামেও প্রশাসক নিয়োগের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর হলো।