ডিজিটাল পেমেন্টে কেনা যাবে সঞ্চয়পত্র

হাসান আরিফ, ঢাকা: সঞ্চয়পত্র কিনতে আর ব্যাংক, ডাকঘর বা সঞ্চয়পত্র অফিসে গিয়ে নগদ টাকা দিতে হবে না। ঘরে বসেই ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ জন্য সঞ্চয়পত্র কেনার অনলাইন ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধ ও ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের সুবিধা যুক্ত করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার এক সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সভায় সঞ্চয়পত্র কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি লেনদেনের নিরাপত্তা বাড়াতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের অনলাইন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কিনতে আগ্রহী ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ও হিসাবের মালিকানা যাচাই করা যাবে। যাচাই শেষে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের টাকা পরিশোধ করা যাবে।

এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সঞ্চয়পত্রের অনলাইন ব্যবস্থায় গ্রাহকের মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাব পরিবর্তনের সুবিধা আবার চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার ব্যবস্থা চালু করতে সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা আইবাস++ -এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করবে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, আইবাস++, এসপিএফএমএস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগ।

ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের পর টাকা পরিশোধ
নতুন ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্র কেনার আগে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হবে। এতে গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাবের তথ্য সঠিক কি না এবং হিসাবটি তার নিজের নামে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে সঞ্চয়পত্র কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঝুঁকি কমানো। বিশেষ করে অন্যের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার কিংবা ভুয়া তথ্য দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ বন্ধ করতে ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে আইবাস++ ব্যবস্থায় এভিএসের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। তবে একটি হিসাব যাচাই করতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। ভবিষ্যতে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে হিসাব যাচাই করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

চেকের টাকা জমা না হওয়া পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র নয়
চেকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চেকের টাকা সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা হওয়ার আগেই সঞ্চয়পত্র ইস্যু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে অর্থ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা ও জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ সমস্যা সমাধানে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের অনলাইন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেক নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপন করা হবে। নতুন নিয়মে চেকের টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা যাবে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ জালিয়াতির বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জালিয়াতির ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্য
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা, তফসিলি ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘর থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর চার ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে। এগুলো হলো পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র। ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে গ্রাহকের নিজের নামে ব্যাংক হিসাব থাকতে হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাতীয় অর্থনীতিকে জানান, চলতি বছরের মধ্যেই জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের অনলাইন ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন ব্যবস্থা চালু করতে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে দ্রুত ব্যাংক হিসাব যাচাই, নিরাপদে অর্থ পরিশোধ এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের সক্ষমতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এসব কাজ শেষ হলেই ডিজিটাল মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার সুবিধা চালু করা সম্ভব হবে।