ফিরছে ডিভি লটারি, খুলছে কি বাংলাদেশিদের ভাগ্য? (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: একটা লটারি! আর সেই লটারিই বদলে দিতে পারে কারও ভবিষ্যৎ! স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ—তাও আবার লটারির মাধ্যমে! কিন্তু সেই সুযোগ পেতে হলে মানতে হয় নির্দিষ্ট শর্ত।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার সেই আলোচিত ডিভি লটারি চালু করতে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত। আবেদনের সময়সীমা নিয়ে এসেছে নতুন নির্দেশনাও। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশিরা কি এবার আবেদন করতে পারবেন? নাকি শুরু হওয়ার আগেই থেমে যাবে সেই স্বপ্ন?

 

আদালতের নির্দেশ — কবে শুরু হতে পারে আবেদন?

প্রথমে জানা যাক, কী ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারির নিবন্ধন নির্ধারিত সময়ে শুরু না হওয়ায় বিষয়টি গড়ায় আদালতে। ‘রেড ঈগল ল’নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান মামলা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ, নিবন্ধন শুরু না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে।

১৪ অক্টোবর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত। পরে সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। নিবন্ধন অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার কথাও রয়েছে। নির্বাচিতদের বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার সময়সীমা ৩ ডিসেম্বর।

তবে এখানেই শেষ নয়। মার্কিন সরকার এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং আদেশ স্থগিতের আবেদনও জানিয়েছে। অর্থাৎ, আদালতের নির্দেশ থাকলেও চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণার ওপর।

ডিভি লটারি আসলে কী? কেন এত আগ্রহ?

ডিভি লটারি কী, তা আগে বুঝে নেওয়া যাক। ডিভি বা ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি অভিবাসন কর্মসূচি। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়। প্রতি বছর এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসার বিধান রয়েছে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—লটারিতে নির্বাচিত হলেই সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ, কাগজপত্র যাচাই, সাক্ষাৎকারসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়। সব শর্ত পূরণ করে ভিসা পেলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ মেলে। তাই অনেকের কাছে ডিভি লটারি শুধু একটি আবেদন নয়, বরং নতুন জীবনের সম্ভাবনা। কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে রয়েছে বড় একটি বাধা।

বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন - আবেদন করা যাবে?

বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হলো—২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডিভি লটারির জন্য অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করায় বাংলাদেশ এই কর্মসূচির যোগ্যতা হারায়।
 
কারণ, ডিভি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই হলো যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দেশ থেকে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ অভিবাসন করেন, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য সুযোগ তৈরি করা। তাহলে এবার কি বাংলাদেশের জন্য সেই নিয়ম বদলাবে? এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

২০২৭ সালের ডিভি লটারির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এবং যোগ্য দেশগুলোর তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। আরেকটি বিষয়—ডিভি লটারির যোগ্যতা সাধারণত আবেদনকারীর জন্মদেশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়; শুধু অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকলেই যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না।
অর্থাৎ, আদালতের নির্দেশে লটারি চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাংলাদেশিদের আবেদন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমনটা এখনই বলা যাবে না।

আবেদন করার আগে যে ভুল একদমই করবেন না

এবার আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতায়। ডিভি লটারির খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারক চক্রও সক্রিয় হতে পারে। কেউ বলতে পারে, টাকা দিলেই নিশ্চিত লটারি জিতিয়ে দেবে। কেউ আবার গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে।

মনে রাখবেন, লটারিতে নির্বাচিত করে দেওয়ার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রাথমিক নিবন্ধন সাধারণত বিনামূল্যে করা হয়। তাই আবেদন ফি, যোগ্যতার শর্ত কিংবা ওয়েবসাইট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অনুমোদনবিহীন  ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কথায় টাকা দেবেন না।

নিবন্ধনের সময়সূচি ও আবেদনপদ্ধতি যাচাই করবেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে। সরকারি নির্দেশনা না দেখে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও অপরিচিত কারও হাতে তুলে দেবেন না।

অপেক্ষা করতে হবে কোন ঘোষণার?

সব মিলিয়ে, ডিভি লটারি নিয়ে নতুন করে আশার আলো তৈরি হয়েছে আদালতের নির্দেশে। কিন্তু সেই আলো বাংলাদেশের আবেদনকারীদের জন্য কতটা উজ্জ্বল হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একদিকে আদালতের নির্দেশ, অন্যদিকে সরকারের আপিল—সবকিছু মিলিয়ে নজর এখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী ঘোষণার দিকে।

তাই শুধু লটারি চালুর খবর শুনেই আবেদন করার প্রস্তুতি নয়, আগে নিশ্চিত হতে হবে—বাংলাদেশিরা আদৌ যোগ্য কি না, আবেদন শুরু হচ্ছে কবে এবং কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে। কারণ, আমেরিকায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখার আগে সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিক তথ্য জানা। তাই, সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত গুজব নয়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপরই রাখুন ভরসা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি