এডিপি বাস্তবায়নে ৩.৮৯ শতাংশ, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নেমেছে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশে যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গতকাল রোববার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত এডিপির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ১২ হাজার ১৫৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ব্যয় হয়েছিল ১৩ হাজার ২১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

শুধু সেপ্টেম্বর মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এ মাসে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৩০৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে ব্যয় হয়েছিল ৬ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, বাস্তবায়নের হার ছিল ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

আইএমইডি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে এডিপির আওতায় ১ হাজার ১৫৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট বরাদ্দ ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন প্রায় ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

তিন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ব্যয় শূন্য
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে নয়টির অর্থ ব্যয়ের হার ১ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে সেতু বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথম তিন মাসে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি।

১ শতাংশের কম ব্যয় করা অন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।

চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এডিপির মোট বরাদ্দের ৫২ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম তিন মাসে এসব প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়নের হারে বড় ব্যবধান দেখা গেছে।

একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ যা মোট বরাদ্দের ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ। প্রথম তিন মাসে বিভাগটি ব্যয় করেছে ৪ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বা নিজস্ব বরাদ্দের ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ব্যয় করেছে প্রায় ১ হাজার ২২০ কোটি টাকা বা বরাদ্দের ৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। বিদ্যুৎ বিভাগ ব্যয় করেছে প্রায় ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বা বরাদ্দের ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ব্যয় হয়েছে ৩৮৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা বা বরাদ্দের ২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয়ের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রতিষ্ঠানটি বরাদ্দের ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ ব্যয় করেছে। এরপর রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; ব্যয়ের হার ১৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ১৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ ব্যয় করেছে।

এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় বরাদ্দের ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ ব্যয় করেছে।

কমেছে বৈদেশিক অর্থের ব্যবহার
সরকারি তহবিলের বরাদ্দ থেকে জুলাই-সেপ্টেম্বরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫৮ কোটি টাকা যা বরাদ্দের ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছিল ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা বা বরাদ্দের ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের বরাদ্দ থেকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা যা বরাদ্দের ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৫ হাজার ৭৪ কোটি টাকা বা বরাদ্দের ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫১৮ কোটি টাকা যা এ খাতের বরাদ্দের ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।