জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: আপনি কি প্রতি মাসের ১ তারিখ বাড়িওয়ালার হাতে ভাড়ার টাকা তুলে দিয়ে ভাবছেন একটা থাকার জায়গা তো হলো? ভুল ভাবছেন! আসলে আপনি অন্যের সম্পদ তৈরিতে নিজের কষ্টের টাকা পানি করছেন।
বিষয়টি একটু হিসাব করে দেখা যাক। ধরুন, আপনি প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়া দেন। বছরে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর ১০ বছরে? প্রায় ২৪ লাখ টাকা! কিন্তু এই বিশাল অঙ্কের টাকা ঢালার পরও দশ বছর শেষে এই বাড়িটির ওপর আপনার কোনো অধিকার থাকবে না। কিন্তু ঠিক এই টাকাটা যদি আপনি কোনো ফ্ল্যাটের কিস্তি বা ইএমআই হিসেবে দিতেন, তবে কিছুটা হলেও নিজের একটি সম্পদের মালিক হতেন।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। ভাড়া থাকার সুবিধা হলো, আপনি যখন খুশি এলাকা পরিবর্তন করতে পারছেন। কোনো বড় অঙ্কের ডাউনপেমেন্ট বা ঋণের বোঝা আপনার মাথায় থাকছে না। অন্যদিকে ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নিলে আপনাকে শুরুতেই এককালীন একটি বড় তহবিল দিতে হয় এবং আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য ব্যাংকের সুদের জালে বাঁধা পড়তে হয়।
তাহলে আপনার সিদ্ধান্ত কী হওয়া উচিত? এটা নির্ভর করে আপনার জীবনের বর্তমান অবস্থান এবং আয়ের স্থায়িত্বের ওপর। যদি আপনার কাছে পর্যাপ্ত জমানো টাকা থাকে এবং নির্দিষ্ট শহরে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা থাকে, তবে ভাড়ার চক্র থেকে বের হয়ে আসার সময় এখনই। কিন্তু আপনার আয় যদি অনিয়মিত হয় এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না থাকে, তবে হুট করে হোম লোনের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকিতে যাওয়া বোকামি হবে।
স্মার্ট আর্থিক পরিকল্পনার নিয়ম অনুযায়ী, ভাড়ার টাকা যদি আপনার মাসিক আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি না হয়, তবে আপনি নিরাপদ। কিন্তু আপনি যদি আয়ের বড় একটা অংশ কেবল ভাড়াতেই দিয়ে দেন, তবে আপনি সত্যিকার অর্থেই বড় অংকের অর্থ হারাচ্ছেন। আবেগের বশে না গিয়ে আপনার সঞ্চয়, বর্তমান আয় এবং ভবিষ্যতের চাহিদার সমীকরণ মিলিয়ে হিসাব করুন।
মনে রাখবেন, বাড়ি কেনা কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, এটি একটি বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। তাই অন্যের বাড়ি সমৃদ্ধ করবেন নাকি নিজের ভিত্তি শক্ত করবেন, সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আপনার।
ভাড়ায় থাকছেন নাকি আসলে টাকাই হারাচ্ছেন
প্রতি মাসে বাড়িওয়ালাকে ভাড়ার টাকা দিচ্ছেন, আর ভাবছেন নিজের একটা ছাদ আছে? আসলে আপনি আপনার কষ্টের টাকায় অন্যের একটা ফ্ল্যাট বানিয়ে দিচ্ছেন! ১০ বছরে ভাড়ার পেছনে আপনি গড়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ঢালছেন, যা দিনশেষে সম্পূর্ণ জিরো রিটার্ন।
আপনার কাছে যদি ডাউনপেমেন্টের টাকা থাকে এবং আয় স্থায়ী হয়, তবে ভাড়ায় থাকা বন্ধ করুন। আজই নিজের সম্পদের দিকে নজর দিন, অন্যের পকেট ভারী করা বন্ধ করুন!
—জা. অর্থনীতি/এলএটি