হাসান আরিফ, ঢাকা: সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম এবং বৈশ্বিক বন্ড সূচকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ইউরোক্লিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া সুদ আয়ের ওপর কর আরোপের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ চূড়ান্ত করার সময়সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের গত সেপ্টেম্বরের এক চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ক্যাশ অ্যান্ড ডেট ম্যানেজমেন্ট কমিটির (সিডিএমসি) ৪৮তম সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সভায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারি সিকিউরিটিজকে ইউরোক্লিয়ারের মতো আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জেপি মরগানের গভর্নমেন্ট বন্ড ইনডেক্স– ইমার্জিং মার্কেটস (জিবিআই-ইএম) এবং এ ধরনের অন্যান্য সূচকে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, বাংলাদেশের সরকারি বন্ড জেপি মরগানের একটি সূচকে তালিকাভুক্ত হয়েছে। অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এসব প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে, তা নিশ্চিত নয়।
সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া সুদ আয়ের ওপর কর আরোপের বিষয়েও আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সিডিএমসির পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগে বড় ওঠানামা
বাংলাদেশের সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগে অতীতে বড় ওঠানামা দেখা গেছে। ২০১৩ সালের এপ্রিলে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের অর্থ এক বছর ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়। পরের বছর অনিবাসী বিনিয়োগকারীর টাকা হিসাবের (নিতা) মাধ্যমে বন্ড কেনার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৪৩ কোটি টাকায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রকাশনার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর সরকারি ট্রেজারি বন্ডে অনিবাসী বিনিয়োগ প্রায় শূন্যে নেমে আসে। কর্মকর্তাদের মতে, টাকার অবমূল্যায়ন এবং ডলার–সংকটে মুনাফা প্রত্যাবাসনের জটিলতা এর অন্যতম কারণ।
ফ্লোটিং রেট বন্ডের ইস্যু বাড়ানোর সুপারিশ
সিডিএমসির সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফ্লোটিং রেট ট্রেজারি বন্ড (এফআরটিবি) ইস্যু অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাসিক ইস্যুর পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়।
এফআরটিবির সুদের হার স্থির নয়। ৯১ দিনের বাংলাদেশ কম্পাউন্ডেড রেটের (বিসিআর) সঙ্গে অতিরিক্ত একটি হার বা স্প্রেড যোগ করে এর সুদ নির্ধারণ করা হয়। প্রতি প্রান্তিকে সুদ পরিশোধ করা হয়।
২০১৯ সালের মার্চে তিন বছর মেয়াদি ৫০০ কোটি টাকার এফআরটিবি প্রথম বাজারে আসে। অনিবাসী বিনিয়োগকারীরাও নিতা বা অনিবাসী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের অর্থ দিয়ে এ বন্ড কিনতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, সুদের হার বাড়লে এ বন্ডে বিনিয়োগকারীর প্রাপ্য সুদও বাড়ে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে তারা কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন।