জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: দুপুরের মক্কা। সূর্য যেন আগুন ঢালছে। উত্তপ্ত বালুর ওপর শুইয়ে রাখা হয়েছে এক হাবশি ক্রীতদাসকে। মালিক উমাইয়া ইবনে খালাফের নির্দেশে তাঁর ওপর চলছে অমানুষিক নির্যাতন— শুধু একটি ‘অপরাধে’: তিনি বলেছেন, আমার রব আল্লাহ।
নির্যাতনকারীরা শর্ত দিল— লাত-উজ্জার নাম নাও, মুক্তি পাবে। জ্বলন্ত শরীর, ফেটে যাওয়া ঠোঁট। সেই ঠোঁট নড়ে উঠল। কী বললেন তিনি? ‘আহাদ! আহাদ!’— আল্লাহ এক! আল্লাহ এক!
তিনি বিলাল ইবনে রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, প্রকাশ্যে ইসলাম ঘোষণাকারী প্রথম সাতজনের একজন ছিলেন বিলাল। মুশরিকরা তাঁদের লোহার বর্ম পরিয়ে কাঠফাটা রোদে ফেলে রাখত। সবার কোনো না কোনো সামাজিক সুরক্ষা ছিল, কিন্তু বিলালের ছিল না কেউ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি নিজের ওপর সব নির্যাতন তুচ্ছ করে নিয়েছিলেন। শেষে শিশু-কিশোরদের হাতে তুলে দেওয়া হলো— তারা তাঁকে মক্কার অলিগলিতে টেনে বেড়াত, আর তিনি বলতেই থাকতেন: ‘আহাদ! আহাদ!’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৫০)
সিরাতগ্রন্থগুলোতে (ইবনে হিশাম) আরও এসেছে— বুকের ওপর বিশাল পাথর চাপা দিয়ে রাখা হতো তাঁর। এই বিবরণটি ঐতিহাসিক বর্ণনা হিসেবেই আমরা উল্লেখ করছি। অবশেষে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে কিনে মুক্ত করে দেন।
তারপর ইতিহাসের সেই মধুর প্রতিদান— যে কণ্ঠকে চাবুক স্তব্ধ করতে পারেনি, সেই কণ্ঠই হলো ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ। যে মানুষটিকে মক্কার বালুতে টেনে-হিঁচড়ে অপমান করা হয়েছিল, মক্কা বিজয়ের দিন তিনিই কাবার ছাদে দাঁড়িয়ে আজান দিলেন।
আজকের জীবনে আমাদের ঈমানের পরীক্ষা হয়তো জ্বলন্ত বালুতে হয় না। আমাদের পরীক্ষা হয় অফিসে, বন্ধুমহলে, সোশ্যাল মিডিয়ায়— যেখানে দ্বীন মানতে গেলে কখনো উপহাস শুনতে হয়, কখনো সুবিধা হারাতে হয়। বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু শেখালেন: পরিচয়, পদ, অর্থ— সব কেড়ে নেওয়া যায়; কিন্তু ‘আহাদ’ বলা অন্তরকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।
হে আল্লাহ! আমাদের ঈমানকে বিলালের ঈমানের মতো অটল করে দিন— যা কোনো লোভ কিনতে পারে না, কোনো ভয় ভাঙতে পারে না। আমিন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি