আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) চীনের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি ও সিএমজির বরাতে জানা গেছে, বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশটির সার্বিক জিডিপির মোট আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। এছাড়া অর্থনীতির অন্যতম প্রধান নির্দেশক ‘শিল্প মূল্য সংযোজন উৎপাদন’ সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি দেশটির শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে চীনের প্রধান শহরগুলোতে গড় বেকারত্বের হার ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের হারের সমান। অর্থনৈতিক নানামুখী নীতিমালার কারণে কারখানা ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ বজায় থাকায় শহর এলাকার সার্বিক কর্মসংস্থানে কোনো বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেনি।
একই সময়ে দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসী কর্মীদের সংখ্যায়ও ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা গেছে। বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশজুড়ে মোট অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ২৭ লাখে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেশি, যা উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোতে নিয়মিত কাজের সংস্থান অব্যাহত থাকার চিত্র তুলে ধরে।
এদিকে চীনের অর্থনীতির অন্যতম বড় উদ্বেগের জায়গা রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতেও দীর্ঘ মন্দা কিছুটা কেটে ওঠার আভাস মিলেছে। প্রধান শহরগুলোতে বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে বার্ষিক দাম কমে যাওয়ার যে ধারাবাহিক প্রবণতা ছিল, তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো বা ব্যবহৃত বাড়িগুলোর দাম পড়ার গতি অনেকটাই শ্লথ হয়েছে; আগস্ট মাসে যেখানে বাড়িগুলোর দাম কমার হার ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ, সেপ্টেম্বর মাসে তা কমে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি, শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা এবং আবাসন খাতের এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেশটির সার্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
জেএ/অভি