ড্রোনে করে আহত সেনাকে উদ্ধার করল ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত উদ্ধারপদ্ধতি যখন প্রাণঘাতী ঝুঁকির কারণে অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন বিকল্প প্রযুক্তির সাহায্যে আহত সেনাকে উদ্ধারে নতুন নজির গড়েছে ইউক্রেন। দেশটির সেনাবাহিনীর ৯২তম পৃথক অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ড্রোন ইউনিটের দাবি, আকাশপথে ড্রোন ব্যবহার করে আহত এক সেনাকে উদ্ধার করার ঘটনা বিশ্বে প্রথম।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ অভিযানের তথ্য জানায় ব্রিগেডটি। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন মাটিতে অবতরণ করে। এরপর সামরিক পোশাক পরা এক ব্যক্তি ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত উইঞ্চে নিজেকে সংযুক্ত করেন। পরে ড্রোনটি তাঁকে শূন্যে তুলে নেয়। তবে কোথায় অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ৯২তম অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ড্রোন ইউনিট জানায়, অভিযানটি সফল হয়েছে। আহত সেনাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তার জীবন আর ঝুঁকির মধ্যে নেই।

ড্রোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুরজুফ ডিফেন্স জানিয়েছে, ওই সেনা প্রায় দেড় বছর ধরে বিপজ্জনক একটি যুদ্ধ অবস্থানে ছিলেন। তাঁকে প্রচলিত পদ্ধতিতে উদ্ধারের চেষ্টা উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারত। এ কারণে ‘আয়ুদাগ-৬’ নামের ছয় পাখাবিশিষ্ট ড্রোন ব্যবহার করা হয়। ড্রোনটি তাকে তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। সেখানে অপেক্ষায় থাকা সহযোদ্ধারা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী আগে থেকেই আহতদের সরিয়ে নিতে চালকবিহীন স্থলযান ব্যবহার করে আসছে। তবে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান নতুন সংযোজন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুই পক্ষই যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনের বিস্তৃত ব্যবহার সম্মুখযুদ্ধের এলাকাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

জা.অর্থনীতি/এসআই