অলহার দুর্গা বাড়ী, বিশ্বাসে গড়া ২৪ বছরের তীর্থস্থান
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সবুজ ধানক্ষেতঘেরা মৌলভীবাজার সদর উপজেলার অলহা গ্রাম। এখানেই ২৪ বছর আগে দেবী দুর্গার চরণচিহ্ন দেখার কথিত ঘটনাকে ঘিরে গড়ে ওঠে শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ী। ভক্তদের বিশ্বাস আর নিয়মিত পূজা-অর্চনায় ছোট্ট একটি স্থান আজ পরিণত হয়েছে সিলেট বিভাগের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম আস্থার তীর্থস্থানে।

স্থানীয় ও ভক্তদের প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, ১৪০৬ বঙ্গাব্দের ১৯ আশ্বিন, ইংরেজি ২০০০ সালের ৩ অক্টোবর ভোরে কয়েকজন ভক্ত সেখানে দেবী দুর্গার রাঙা চরণের চিহ্ন দেখতে পান বলে দাবি করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ সেখানে ভিড় করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, ওই স্থানে দেবীর আবির্ভাব ঘটেছিল। এরপর স্থানটি ‘শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ী’ নামে পরিচিতি পায়।

শুরুতে সেখানে কোনো পাকা মন্দির বা প্রতিমা ছিল না। টিনের চালার নিচে মাটির বেদিতে ঘট স্থাপন করে পূজা শুরু হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পরে মন্দিরের একনিষ্ঠ সেবক স্বপ্নাদেশে দেবীর নিত্যপূজার নিয়ম জানতে পারেন। সেই নিয়ম অনুসারে প্রতিদিন সকালে ফলভোগ, দুপুর সাড়ে ১২টায় অন্নভোগ এবং রাতে আবার ফলভোগ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই নিত্যসেবা কখনো বন্ধ হয়নি।

নিত্যপূজার পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের আকাঙ্ক্ষাও ছিল। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, দেবীর নির্দেশ পাওয়ার পর ২০০৪ সালে এখানে চার দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়। ভক্তদের চাঁদা ও সহযোগিতায় আয়োজিত এই পূজা পরবর্তী বছরগুলোতেও চলতে থাকে। মন্দির কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ২০ বছর এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভক্তদের সমাগম। ছোট ঘটের পরিবর্তে বড় বিগ্রহ স্থাপনের দাবি ওঠে। মন্দির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল দেবীর নির্দেশ পাওয়ার পর বড় বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানে কয়েক মাসের মধ্যেই বিগ্রহ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে পাকা মন্দির ও বর্তমান পূজার আয়োজন।

শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ীর সেবাইত শ্রী নিতাই দেবনাথ বলেন, ২০০৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভক্তরা পূজা পরিচালনা ও মন্দিরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার ভাষায়, এই দুর্গা বাড়ী কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি হাজারো ভক্তের অবদান। মন্দিরের প্রতিটি ইট ও ধূলিকণায় তাদের ভালোবাসা মিশে আছে।

একটি কথিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া পূজা-অর্চনা আজ বহু মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের অংশ। মানত, প্রার্থনা আর ভক্তির টানে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন অলহার শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ীতে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি মন্দির নয়, বরং বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে ওঠা ২৪ বছরের ইতিহাস।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি