বিল্লাল হোসেন (কুষ্টিয়া): একতারা, দোতারা আর ঢোল-বাঁশির সূরে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে লালন ফকিরের ভবের হাট।
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ আধ্যাত্মিক এই বাণীটি সামনে রেখে জাত-পাত ভুলে লালনের ভক্ত-অনুসারীরা নিজেকে ও অজানাকে জানছেন। মহাগুরু ফকির লালনের রীতি অনুযায়ী সাধুসঙ্গে দিক্ষা নিচ্ছেন।
লালন ফকিরের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে ৩ দিনের লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে পূণ্য সেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ করেছেন তারা। লালন স্মরণোৎসব শেষ হবে কাল সোমবার (১৯ অক্টোবর)।
এবার স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দেশি-বিদেশি ভক্তরা ভবের হাটে ভিড় করেছেন। আজ সকাল থেকে সাধুসঙ্গে বাল্য, রাখাল ও পূণ্য সেবার মধ্য দিয়ে মনের হিংসা, রাগ দুর করতে মহাগুরু লালনের দারস্থ হয়েছেন তারা। এভাবেই তারা নিজেদেরকে খাটি করে তুলছেন। বলছেন, লালন ফকিরইতো সব ধর্ম বর্ণের মানুষকে একত্র করতে প্রেরণা জুগিয়েছেন।
তিনশ বছরের পুরোনো লাল দুর্গা দেখতে ভক্তের ঢল
প্রতিনিয়ত আখড়াবাড়ির ভেতরে খণ্ড খণ্ড সাধু আস্তানায় গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার চলছে। রাতে আখড়াবাড়ির বাইরে মূল মঞ্চে হবে লালন দর্শনের আলোচনা ও গান গানে বাণী প্রচার। লালন একাডেমির মাঠে চলছে বাউল মেলা। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এক মহাসম্মিলনিতে মেতে উঠেছেন সবাই।
আধ্যাত্মিক জগতের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাধক ফকির লালন তার জীবদ্দশায় দৌল পূর্ণিমার তিথিতে ভক্তদের নিয়ে সাধুসঙ্গ করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার দেহত্যাগের পর তাকে স্মরণে তার রীতি মেনেই সাধুসঙ্গ শুরু করেন অনুসারীরা। পরে লালন একাডেমি এ উৎসব চালিয়ে আসছে। ১৩৬ বছর ধরে চলা এই সাধুসঙ্গের এই উৎসব এখন বিশাল লালন স্মরণোৎসবে পরিণত হয়েছে।
লালন বিশ্লেষক হৃদয় শাহা ফকির বলেন, নিজেকে জানতে ও যখনই প্রয়োজন হয় মানুষ এভাবে ভবের হাটে জড়ো হয়। লালনের বাণী ছড়িয়ে দিতে পারলেই সাথক হবে এই উৎসব বলছেন ভক্তরা।
—জা. অর্থনীতি/এনজে
