প্রযুক্তি ডেস্ক: স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও বেশি পার্সোনালাইজড ও স্বয়ংক্রিয় করতে পরীক্ষামূলক এজেন্টিক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘এলা ক্ল’ নিয়ে এসেছে প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো। সাধারণ চ্যাটবটের মতো কেবল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, স্মার্টফোনে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন নানা কাজ সরাসরি সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
টেকনোর নিজস্ব অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘এলা’ এবং ‘ওপেনক্ল’ ফ্রেমওয়ার্কের যৌথ সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এই প্রযুক্তি। ৪০টিরও বেশি স্মার্ট স্কিল সমৃদ্ধ এই এআই ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ শনাক্ত করা, র্যাম ও প্রসেসরের কাজের চাপ অপটিমাইজ করা এবং অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ কমানোর মতো কাজটি অনায়াসে সম্পন্ন করে। তবে ডিভাইসের যেকোনো বড় পরিবর্তন করার আগে ব্যবহারকারীর স্পষ্ট অনুমতি নেওয়ার সুবিধা রাখা হয়েছে।
ব্যবহারকারীর পছন্দ ও অভ্যাস বুঝতে ‘এলা ক্ল’ ব্যবহার করে লং-টার্ম মেমোরি। এর ফলে ক্যালেন্ডার, ট্রাভেল ও আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দিনের শুরুতেই এটি রুটিন প্ল্যানিং এবং ট্রাভেল রিমাইন্ডার তৈরি করে দিতে পারে। এছাড়া এতে থাকা ‘ক্রস-অ্যাপ অটোমেশন’ ফিচারের মাধ্যমে একাধিক অ্যাপের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ—ব্যবহারকারীর এক নির্দেশেই এটি রাইড-শেয়ারিং অ্যাপে গাড়ি বুক করা, অনলাইনে খাবার অর্ডার দেওয়া বা কেনাকাটার মতো জটিল কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে পারে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’ তাদের এক রিপোর্টে টেকনোর এই উদ্ভাবনকে নতুন প্রজন্মের ‘এজেন্ট ফোন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, স্মার্টফোনের এআই প্রযুক্তি এখন আর কেবল সাধারণ তথ্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে বাস্তবে কাজ করে দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি’ ও ‘গ্যাজেটম্যাচ’-ও টেকনোর এই অটোমেশন সুবিধার বেশ প্রশংসা করেছে।
বাংলাদেশের বাজারে কাজ, পড়াশোনা ও বিভিন্ন অনলাইন সেবার কাজে স্মার্টফোনের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে টেকনো জানিয়েছে, বর্তমানে ‘এলা ক্ল’ উন্নয়ন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে কেবল প্রিমিয়াম ডিভাইসে নয়, বরং সব স্তরের গ্রাহকের হাতে এই উন্নত এজেন্টিক এআই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।