প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে ব্রিটেনের রাজার হুঁশিয়ারি

প্রযুক্তি ডেস্ক: ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটে অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধীদের অপতৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়লে বিশ্বজুড়ে চরম ঝুঁকি ও ভয়াবহ বিপর্যয় তৈরি হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের (এনসিএসসি) ১০ বছরপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ চিঠিতে এই সতর্কবার্তা পাঠান রাজা চার্লস। তিনি উল্লেখ করেন, সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল বদলাচ্ছে এবং লক্ষ্য হাসিলে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। বিশ্বব্যবস্থা রক্ষা এবং নতুন প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি এর তৈরি ঝুঁকিগুলোর সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা এখন সময়ের দাবি।

মূলত এনসিএসসি ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের সরকারি যোগাযোগ সদরদপ্তরের (জিসিএইচকিউ) অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জনসেবা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা ধরনের সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার কাজ করে সংস্থাটি। চিঠিতে সংস্থাটির এক দশকের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে রাজা চার্লস লেখেন, এনসিএসসির অধিকাংশ কাজের কথা নিরাপত্তার স্বার্থেই জনসমক্ষে আনা সম্ভব হয় না, তবে প্রতিনিয়ত ডিজিটাল বিশ্বকে নিরাপদ রাখতে সাইবার বিশেষজ্ঞরা যে নীরব ভূমিকা রাখছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

সম্প্রতি এআই খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও রাজা চার্লস এআই প্রযুক্তির অন্ধকার দিক নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংসহ প্রযুক্তি খাতের জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এআই প্রযুক্তি এখন এমন কিছু মারাত্মক ক্ষমতা অর্জন করছে, যা মানুষের জীবনের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বজুড়ে এই শক্তিশালী প্রযুক্তি যাতে ভুল মানুষের হাতে না পড়ে বা ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহৃত না হতে পারে, সে বিষয়ে প্রযুক্তি নির্মাতাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের কল্যাণ ও পৃথিবীর সুরক্ষার দিকে নজর রেখে প্রযুক্তি এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় ওই বৈঠক থেকে।

যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক সাইবার আক্রমণের ঘটনা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে দেশটির জনপ্রিয় অনলাইন ফ্যাশন আউটলেট ‘অ্যাসোস’ এর অ্যাপ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা লাখ লাখ গ্রাহকের ফোনে পপ-আপ বার্তা পাঠিয়ে দেয়। পরেপরীক্ষা করে দেখা যায়, হ্যাকারদের হাতে গ্রাহকদের নাম, ঠিকানা, ইমেইল, ফোন নম্বর, জন্মতারিখ এবং অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য চলে গেছে। বড় ধরনের এই সাইবার হামলার পর অ্যাসোস কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এনসিএসসি বিষয়টি সমাধানের জন্য সরাসরি কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ফ্যাশন প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনার পর পরই সাইবার নিরাপত্তা ও এআই প্রযুক্তির সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি নতুন করে সামনে এলো। বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির ওপর নজরদারি এবং ইন্টারনেটে অপরাধীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এই হুমকি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।