অনলাইন ডেস্ক: সারাদিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তির পরও বিছানায় গিয়ে সহজে ঘুম না আসা কিংবা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, কেবল শারীরিক ক্লান্তিই ঘুমানোর জন্য যথেষ্ট নয়; অনিদ্রার পেছনে জীবনযাপন পদ্ধতি, মানসিক চাপ ও নানা ধরনের শারীরিক কারণ যুক্ত থাকতে পারে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ, পারিবারিক কলহ, আর্থিক দুশ্চিন্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে মানুষের মস্তিষ্ক অতিমাত্রায় সক্রিয় থাকে। ফলে শরীর বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হলেও মন শান্ত হতে পারে না এবং স্বাভাবিক ঘুমের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অনিয়মও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্টের অন্যতম বড় কারণ। প্রতিদিন ঘুমানোর সময় পরিবর্তন করা, দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানো কিংবা নিয়মিত গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাসে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে দীর্ঘ সময় মুঠোফোন, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা মস্তিষ্ককে আরও উত্তেজিত করে তোলে। বিশেষ করে বিছানায় শুয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা চিত্তাকর্ষক কোনো বিষয় দেখার অভ্যাস অনিদ্রার সমস্যাকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।
খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু শারীরিক অসুস্থতাও রাতের স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। দুপুরের পর বা সন্ধ্যার দিকে অতিরিক্ত চা, কফি কিংবা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে স্নায়ুতন্ত্র দীর্ঘক্ষণ সজাগ থাকে, যা রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শরীরব্যথা, শ্বাসকষ্টের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা কিংবা রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো শারীরিক জটিলতার কারণেও গভীর ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু নিয়মিত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও মানুষের ঘুমের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদানের অভাবও ঘুমের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে শরীরে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ এবং ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি তৈরি হলে তা স্নায়বিক উত্তেজনা বাড়িয়ে অনিদ্রার কারণ হতে পারে; যদিও এই ঘাটতি থাকলেই যে সবার ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যা হবে—তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা চলতে থাকলে নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট সেবন না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মূল কারণটি শনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করা প্রয়োজন।
জেএ/অভি