জাতীয় অর্থনীতি ক্যাম্পাস: ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে চিঠি লেখার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং ডাকটিকিটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে পরিচিত করার লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘চিঠি উৎসব ও ডাকটিকিট প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ উৎসব ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) মো. জাকির হাসান নূর, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) খান হাসান মোহাম্মদ ইকবাল মাসুদ, মেট্রোপলিটন সার্কেলের পোস্টমাস্টার জেনারেল মৌসুমী রহমান, অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেল শরীফ লতীফ, ঢাকা জেনারেল পোস্ট অফিসের (ঢাকা জিপিও) সিনিয়র পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানসহ ডাক অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের কারণে চিঠি লেখার প্রচলন কমে এলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ, আন্তরিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ। একসময় ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ, পারিবারিক যোগাযোগ, সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। এ উৎসবের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে চিঠি লেখার ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ডাকটিকিট প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, ঐতিহাসিক ঘটনা ও জাতীয় অর্জনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের মতে, ডাকটিকিট কেবল ডাকমাশুল পরিশোধের মাধ্যম নয়; বরং একটি দেশের ইতিহাস, জাতীয় পরিচয়, শিল্পবোধ ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
আয়োজকরা আরও বলেন, বিশ্ব ডাক দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে এ ধরনের আয়োজন ডাক বিভাগের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ডাকসেবার সংযোগ জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাকসেবার আধুনিকায়ন যেমন জরুরি, তেমনি ডাক বিভাগের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ উৎসব ও প্রদর্শনী ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে তরুণদের চিঠির মানবিক আবেদন, ডাকটিকিটের ঐতিহাসিক মূল্য এবং জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি