রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া কি প্রোস্টেট বৃদ্ধির লক্ষণ?

অনলাইন ডেস্ক: রাতে গভীর ঘুমের মাঝে বারবার প্রস্রাবের চাপে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘নকচুরিয়া’ বলা হয়। অনেকেই বয়স বাড়ার স্বাভাবিক লক্ষণ ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যান, যা পরবর্তীতে জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বড় হয়ে যাওয়া প্রোস্টেট বা ‘বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া’ (বিপিএইচ)-এর প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. আদিত্য কে. শর্মা। তাঁর মতে, নিয়মিতভাবে এমন সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের বিষয়টিকে অবহেলা না করে দ্রুত এর মূল কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।

পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হওয়া একটি সাধারণ শারীরিক পরিবর্তন। যদিও বিপিএইচ কোনো ক্যানসার নয়, তবে প্রোস্টেট অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে তা মূত্রনালির ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে মূত্রথলি থেকে মূত্র পুরোপুরি নিষ্কাশন করতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। একপর্যায়ে মূত্রথলিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার কারণে রাতে শোয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান না করলেও ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবল বেগ অনুভূত হয় এবং ব্যক্তির গভীর ঘুম বিঘ্নিত হয়।

কেবল রাতে বারবার বাথরুমে যাওয়াই নয়, প্রোস্টেটের জটিলতা তৈরি হলে আরও কিছু স্পষ্ট শারীরিক উপসর্গ প্রকাশ পেতে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আগের তুলনায় প্রস্রাবের গতি বা ধারার তীব্রতা কমে যাওয়া এবং তীব্র বেগ থাকা সত্ত্বেও প্রস্রাব শুরু করতে অতিরিক্ত সময় লাগা। এছাড়া স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব না হয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করতে হওয়া এবং প্রস্রাবের ধারা একটানা না হয়ে মাঝেমধ্যে থেমে গিয়ে পুনরায় শুরু হওয়াও এর লক্ষণ। একই সঙ্গে প্রস্রাব করার পরও বেশ কিছুক্ষণ ফোঁটা ফোঁটা ঝরা এবং মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয়নি এমন অতৃপ্তিকর অনুভূতি প্রোস্টেটের সমস্যাকেই নির্দেশ করে।

তবে রাতে প্রস্রাবের বেগ হওয়ার পেছনে কেবল প্রোস্টেটের জটিলতাই একমাত্র কারণ নয়। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত পানি পান, চা-কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ কিংবা অ্যালকোহল সেবনের ফলেও এই সমস্যা হতে পারে। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অতিসক্রিয় মূত্রথলি, মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই), নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা রাতে শরীরে অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরির প্রবণতাও নকচুরিয়ার জন্য দায়ী হতে পারে। অনেক সময় মানসিক চাপ বা অনিদ্রাজনিত সমস্যার কারণে ঘুম ভেঙে গেলেও মানুষ অভ্যাসবশত বাথরুমে যান।

রাতে বারবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করার সমস্যাটি নিয়মিত ঘটতে থাকলে বা তীব্রতা বাড়লে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকেরা সাধারণত ইউরিন টেস্ট, রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড এবং ইউরিন ফ্লো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রোস্টেটের সার্বিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন। এরপর সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও জটিলতার মাত্রা অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই শারীরিক ভোগান্তি থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
জেএ/অভি