অনলাইন ডেস্ক: প্রতিদিন রাতে একই সময়ে ঘুমাতে গেলেও সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় নিয়মিত বদলে গেলে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সুস্থ থাকার জন্য শুধু পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোই যথেষ্ট নয়, বরং নিয়মিত সময়ে ঘুমানো এবং জেগে ওঠার ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও সমান জরুরি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক চিকিৎসক দিব্যা গোপাল জানিয়েছেন, মানবদেহে ২৪ ঘণ্টার একটি নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ রয়েছে। এই চক্রটি মূলত হরমোন নিঃসরণ, দেহের তাপমাত্রা, বিপাকক্রিয়া ও সতর্কতা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে কর্মদিবসে ভোর ৬টায় এবং ছুটির দিনে সকাল ৯ বা ১০টায় ওঠার মতো তারতম্য শরীরের স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের সমন্বয় নষ্ট করে দেয়।
ঘুমের এই ধারাবাহিকতাহীনতার কারণে মোট ঘুমের পরিমাণ পর্যাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও দিনভর শরীরে ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং কাজে তীব্র অনীহা দেখা দিতে পারে। শরীর পুরোপুরি সতেজ বোধ না করায় দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকা এবং কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ঘুম থেকে ওঠার সময়ের অনিয়ম মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও মেজাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার ফলে অনেকের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ বা আচরণগত ওঠানামা পরিলক্ষিত হয়।
ঘুমের চক্রের সঙ্গে ক্ষুধা, তৃপ্তি ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর সরাসরি সংযোগ রয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার সময় বারবার পরিবর্তিত হলে ক্ষুধা ও খাবারের স্বাভাবিক রুচিতে পরিবর্তন আসে এবং অনেকের ক্ষেত্রে মিষ্টি কিংবা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের অনিয়মের সঙ্গে স্থূলতা, রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা এবং হৃদরোগসহ বিভিন্ন বিপাকীয় জটিলতার যোগসূত্র রয়েছে। তবে গবেষকরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে মাঝেমধ্যে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দেরিতে ওঠা বড় উদ্বেগের বিষয় নয়, কিন্তু প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার সময়ে বড় ধরনের পার্থক্য নিয়মিত ঘটতে থাকলে তা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য সতর্কবার্তা।
শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ও সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিন, এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাছাকাছি সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মদিবস ও ছুটির দিনের ঘুম ভাঙার সময়ের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি কখন বিছানায় যাওয়া হচ্ছে এবং কখন ঘুম ভাঙছে—উভয় ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা শরীরকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
জেএ/অভি