মো. মতিউর রহমান, ঢাকা: দুর্ঘটনায় হাড় ভাঙার পাশাপাশি রক্তনালিতে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীদের চিকিৎসায় ভাসকুলার সার্জনের সংকটে পড়েছে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)। হাসপাতালটির সর্বশেষ ভাসকুলার সার্জন সাত মাস আগে অবসরে গেছেন। এর পর থেকে এ পদে কেউ নেই। ফলে রক্তনালির রোগের চিকিৎসায় অন্য হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাসকুলার সার্জারির জন্য সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকের পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কোনো ভাসকুলার সার্জন কর্মরত নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীরা নিটোরে আসেন। জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তাদের কারও কারও হাড় ভাঙার সঙ্গে ধমনি বা শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব রোগীর চিকিৎসায় অর্থোপেডিক সার্জনের পাশাপাশি ভাসকুলার সার্জন, অবেদনবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত সেবা প্রয়োজন।
ধমনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আক্রান্ত অঙ্গে রক্ত চলাচল বন্ধ বা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে পেশি ও অন্যান্য টিস্যু স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এমনকি হাত-পা কেটে ফেলার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল করার পাশাপাশি প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিটোরের এক চিকিৎসক বলেন, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ থাকলেও ভাসকুলার সার্জন না থাকায় কিছু রোগীর চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন। আলাদা ভাসকুলার সার্জারি ইউনিট ও পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রোপচার দল থাকলে জটিল আঘাতের চিকিৎসা আরও দ্রুত দেওয়া সম্ভব হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাসকুলার সার্জন না থাকলেও রক্তনালির আঘাতের প্রাথমিক চিকিৎসা বন্ধ থাকে না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকরা রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল করা ও প্রাথমিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেন।