অনলাইন ডেস্ক: সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, কাজের চাপ এবং দীর্ঘ সময় ডিজিটাল পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাসের কারণে অনেকেরই রাতে বিছানায় যাওয়ার পর সহজে ঘুম আসতে চায় না। অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাব কেবল শারীরিক ক্লান্তিই বাড়ায় না, বরং ত্বকের স্বাভাবিক সতেজতা ও উজ্জ্বলতা কমিয়ে সৌন্দর্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঘুম না এলে অনেকেই সময় কাটাতে পুনরায় মুঠোফোন ব্যবহার শুরু করেন, যা অনিদ্রার সমস্যাকে উল্টো আরও বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে ঘুমের পরিবেশকে আরামদায়ক করতে বাজারে কিছু আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে; যদিও এগুলো অনিদ্রার কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয়, তবে শোয়ার আগে শরীর ও মনকে ঘুমের উপযোগী করতে বেশ সহায়ক হতে পারে।
ঘুমের পরিবেশ শান্ত করতে এমন একটি উদ্ভাবন হলো বালিশের নিচে ব্যবহারের উপযোগী বিশেষ শব্দযন্ত্র। পাশের মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে কেবল কম্পন ও তরঙ্গের মাধ্যমে এটি ব্যবহারকারীর কাছে বৃষ্টির শব্দ, প্রকৃতির আওয়াজ কিংবা ধীরগতির শান্ত সুর পৌঁছে দেয়। মনকে শান্ত করতে সক্ষম এই যন্ত্রগুলোর বেশিরভাগেই নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। অন্যদিকে ঘুমানোর সময় কানে আলাদা ইয়ারফোন ব্যবহার করতে যাদের অস্বস্তি হয়, তাঁদের জন্য রয়েছে নরম কাপড়ের তৈরি বিশেষ অডিও হেডব্যান্ড। কাপড়ের ভেতরে পাতলা স্পিকারযুক্ত এই ফিতাটি মুঠোফোনের সঙ্গে যুক্ত করে মৃদু শব্দ শোনা যায় এবং নরম উপাদানে তৈরি হওয়ায় এটি মাথায় পরে যেকোনো অবস্থানে শুয়ে থাকা তুলনামূলকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক।
ডিজিটাল স্ক্রিনের কারণে ক্লান্ত চোখের আরাম নিশ্চিত করতে তৃতীয় কার্যকর প্রযুক্তিটি হলো উষ্ণ চোখের মুখোশ বা আই মাস্ক। সারাদিন কম্পিউটার বা মুঠোফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার পর চোখের চারপাশের পেশিগুলোকে শিথিল করতে এই যন্ত্রে মৃদু উষ্ণতা, হালকা চাপ এবং ভাইব্রেশন বা কম্পনের সুবিধা রাখা হয়েছে। শোয়ার আগে চোখের ওপর এই মুখোশ ব্যবহার করলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক হয় এবং মুখের আশপাশের পেশিগুলো দ্রুত শিথিল হয়ে শরীরকে একটি গভীর ও স্বস্তিদায়ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিদ্রার সমস্যা নিয়মিত বা দীর্ঘমেয়াদি হলে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর কোনো যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে থাকা উচিত নয়। এর জন্য সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রতিদিন ঘড়ি ধরে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, রাতে শোয়ার আগে মুঠোফোন ও অন্যান্য পর্দার ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ রাখা এবং শোবার ঘরের পরিবেশ শান্ত ও অন্ধকার রাখার মতো সুঅভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা বজায় থাকলে বা এর সঙ্গে অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
জেএ/অভি