জাতীয় অর্থনীতি আন্তর্জাতিক: ভারতের বিহার রাজ্যে এক সরকারি প্রকৌশলীর বাসা থেকে বিছানার নিচে থরে থরে সাজানো ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিল উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে রাজ্য পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন ইউনিটের (ইওইউ) বৃহস্পতিবারের অভিযানে এই নগদ অর্থ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নারদ কুমার দাস।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই নারদের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গড়ার অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৩(২) ও ১৩(১)(বি) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে ইওইউ। পরদিন সকালে তার বাড়ি ও কর্মস্থলসহ পাঁচটি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি শুরু হয়। প্রতিটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পুলিশের উপপুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা।
ইওইউর ডিআইজি মানবজিৎ সিংহ জানান, মুজাফফরপুরে নারদের একটি আবাসস্থল থেকে বিছানার নিচে রাখা ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিল পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ রুপি নগদ উদ্ধারের কথা বলা হলেও পরে সুনির্দিষ্ট অঙ্ক জানা যায় ৫০ লাখ ৫ হাজার রুপি। নোট গুনতে ব্যবহার করা হয় মেশিন। মুজাফফরপুরের অভিযানের সময় স্থানীয় থানার পুলিশও উপস্থিত ছিল। নগদের বেশির ভাগই ছিল ৫০০ রুপির নোটে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পাওয়া গেছে নারদের শ্বশুরবাড়ি থেকে; অন্য প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে মুজাফফরপুরের একটি ফ্ল্যাটের কথা। কোনটি সঠিক, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো মেলেনি।
তদন্তকারীরা জানান, মুজাফফরপুর ছাড়াও পাটনা, ভাগলপুর ও মুঙ্গেরে অভিযান চলে। ভাগলপুর ও পাটনায় নারদের দুটি বাড়ি, মুজাফফরপুরে একটি ফ্ল্যাট এবং মুঙ্গেরে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। মুঙ্গেরেই তিনি বর্তমানে কর্মরত; সেখানকার সরকারি কার্যালয়েও তল্লাশি হয়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি গয়না এবং স্থাবর সম্পত্তির বেশ কিছু নথিও জব্দ করা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নারদের জ্ঞাত আয়ের চেয়ে প্রায় ৮৩ লাখ ৫০ হাজার রুপির বেশি সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্পদ তার আয়ের চেয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। ইওইউ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য তার মূল বিভাগ রাজ্যের পানিসম্পদ বিভাগকেও জানিয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বেনামে আরও অনেক সম্পত্তি থাকতে পারে। সেগুলোর খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। মামলার পরবর্তী ধাপ, যেমন নারদকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো সুনির্দিষ্ট কিছু জানাননি।
প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে নগদ অর্থ ও গয়না উদ্ধারের তথ্য সূত্রের বরাতে প্রকাশিত হয়েছিল পরে সংস্থাটির বরাতে সুনির্দিষ্ট অঙ্ক সামনে আসে। জব্দ করা গয়নার মূল্য এবং স্থাবর সম্পত্তির নথির হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মোট অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বাড়তে পারে। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে আদালতে বিচারের আগে পর্যন্ত নারদ কুমার দাস অভিযুক্ত মাত্র; তার বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত জুলাইয়ে তেলেঙ্গানা রাজ্যেও একই অভিযোগে এক প্রকৌশলীর একাধিক ঠিকানায় অভিযান চালায় সেখানকার দুর্নীতি দমন সংস্থা। ওই অভিযানে প্রায় ১০০ কোটি রুপির সম্পদের সন্ধান মেলে। এক ঠিকানা থেকে নগদ ৪ লাখ রুপি উদ্ধার হয়, ব্যাংকে ছিল আরও ৪৫ লাখ রুপি। অন্য একটি ঠিকানা থেকে পাওয়া যায় দেড় কেজি সোনা, ১৩ কেজি রুপা, প্রায় ১৮ লাখ রুপির আসবাব, সাড়ে ৯ লাখ রুপির ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি।