ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগসহ নানা দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খাজুরিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবস্থান নিয়ে ‘দফা এক দাবি এক, বিওটি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ’, ‘এক দুই তিন চার , বিওটি চেয়ারম্যান গদি ছাড়’, ‘শিক্ষা ব্যবসা, একসাথে চলে না’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’সহ নানা স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২ সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বা পরিস্থিতি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হননি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এসব দাবি নিয়ে কার্যকর আলোচনা, সমাধানের উদ্যোগ কিংবা লিখিত আশ্বাস না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নীরবতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ উল হক ভূঞা বলেন, আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই আমরা এসব দাবি জানিয়েছি। গত ২ সপ্তাহ ধরে শাটডাউন কর্মসূচি চললেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে কার্যকর কোনো আলোচনা বা সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত আলোচনায় বসুক এবং প্রতিটি দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাক।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ বলেন, আমাদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে হেয় করা নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর ও নিরাপদ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিভিন্ন সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রত্যাশিত সমাধান না পাওয়ায় পরিস্থিতি আজকের অবস্থায় এসেছে।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী পপি বলেন, আমাদের যেসব শিক্ষক ভালো পড়ান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে পরিচিত, তাদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। এতে শুধু শিক্ষকরা নয়, আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কারণ একজন ভালো শিক্ষকের কাছ থেকে নিয়মিত ক্লাস করার সুযোগ থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অন্যান্য দাবিগুলো হলো— বর্তমান রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে অপসারণ করে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ, দ্রুত একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য উপাচার্য নিয়োগ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বর্তমান নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই করে নতুন কমিটি গঠন বা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজন অনুযায়ী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ এবং সব বিভাগে যোগ্য চেয়ারম্যান ও ডিন নিশ্চিত করা। এছাড়া শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত বা বন্ধ থাকা কোর্স দ্রুত চালু, ‘অন্যান্য ফি’ ও ‘উন্নয়ন ফি’সহ সব ধরনের ফি কোথায় ও কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে তার স্বচ্ছ হিসাব ও নীতিমালা প্রকাশ, পর্যাপ্ত ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, স্থায়ী ক্যাম্পাস ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি, হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার শিকার না করে সব বিরোধ আইন ও বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে