রাতে নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক: উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পর পড়াশোনার চাপ, নতুন বন্ধু এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাত জাগার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। নতুন হোস্টেল বা বাসস্থানের অপরিচিত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতেও অনেকের কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নতুন কিছু শেখা এবং তা মনে রাখার ক্ষেত্রে ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সময়ে ঘুমকে অবহেলা করলে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাজ্যের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার্থীদের ঘুমবিষয়ক মনোবিজ্ঞানী জো বেকারের মতে, রাতে ভালো ঘুমের প্রস্তুতি মূলত শুরু হয় সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার নিয়মের ওপর ভিত্তি করে। সকালের প্রাকৃতিক আলো মানবদেহের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা ‘বডি ক্লক’ কার্যকর রাখতে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় সংকেত পাঠায়। এ কারণে তিনি বেলা ১১টার আগেই কিছু সময় বাইরে গিয়ে রোদের আলোতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এর ফলে ঘুম ও জেগে থাকার স্বাভাবিক চক্র সচল থাকে। একই সঙ্গে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ওঠার অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ঘুমের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই জোর করে বিছানায় যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা সমস্যাকে উল্টো আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম না আসা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় বিছানায় অলস পড়ে থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে ঘুমের বদলে হতাশা ও দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। এছাড়া ক্লান্তি কাটাতে দিনের বিভিন্ন সময়ে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, কারণ ক্যাফেইনের প্রভাব শরীরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত থেকে যায়। ঘুম ভাব আনার জন্য অনেকেই অ্যালকোহলের ওপর নির্ভর করলেও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গভীর ঘুমের বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

ঘুমের মান উন্নত করতে ঘুমানোর আগে বিছানার চাদর পরিষ্কার রাখা এবং মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন টাইম কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ঘুমানোর আগে শরীর ও মনকে শান্ত করার রুটিন তৈরি করা প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যের সালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আনা মে ডিক্সন জানান, বিছানায় যাওয়ার আগে গরম পানিতে গোসল তাকে দ্রুত আরাম পেতে সাহায্য করে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসে, যা মস্তিষ্ককে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। এর পাশাপাশি ঘুমানোর প্রস্তুতি হিসেবে পছন্দের বই পড়া, শান্ত সুরের গান শোনা কিংবা শিক্ষণীয় পডকাস্ট শোনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জেএ/অভি