খুচরা বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দুর্বল পুঁজিবাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপে চলতি সপ্তাহে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দরপতন হলো। নানা সংকটে টেকসইভাবে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এমনিতেই সতর্ক অবস্থানে। এর মধ্যে কোম্পানির আয় ও লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম সামনে থাকায় তাঁদের মধ্যে সতর্কতা আরও বেড়েছে। ফলে গতকাল সোমবারও খুচরা বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা ও মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ছিল।

গতকাল সোমবার দিনের শুরুতে কিছু শেয়ারে লেনদেন দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। বরং লেনদেন যত এগিয়েছে, ছোট ও মাঝারি মূলধনের শেয়ারে বিক্রির চাপ তত বেড়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দর বেড়ে যাওয়া কিছু শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারের গতি বদলে দেয়। ফলে একপর্যায়ে ক্রেতাদের তুলনায় বিক্রেতাদের আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৭ দশমিক ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৪৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। 

বিনিয়োগকারীদের অনাস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে লেনদেনেও। আগের কার্যদিবসের ৫৪০ কোটি টাকার লেনদেন ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে মোট ৫৩০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। বাজারে খাতভিত্তিক লেনদেনেও এই সতর্কতার ছাপ রয়েছে। টেক্সটাইল খাতে দিনের মোট লেনদেনের ২৯ দশমিক ৫০ শতাংশ হলেও খাতটিতে দর কমেছে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি অর্থ যে খাতে ঘুরেছে, সেখানেও ক্রেতার চাপ যথেষ্ট ছিল না। প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের মতো কিছু শেয়ারে কেনাকাটা থাকলেও ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস, নূরানি ডাইং ও জাহিনটেক্সের মতো শেয়ারে বড় দরপতন হয়েছে।

ওষুধ ও রসায়ন খাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। খাতটির লেনদেনের অংশ ছিল ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ, কিন্তু দর কমেছে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। টেকনো ড্রাগের দর প্রায় ১০ শতাংশ কমে যাওয়ায় খাতটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সাধারণ বিমা খাতের দর কমেছে ২ দশমিক ২০ শতাংশ। সিরামিক ও আইটি খাতেও তুলনামূলক বেশি সংশোধন হয়েছে।

অন্যদিকে ব্যাংক খাতের দর সামগ্রিকভাবে অপরিবর্তিত ছিল। পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের তারল্য ও ঋণপ্রবাহ নিয়ে চাপ থাকলেও পূবালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও আইএফআইসির মতো কিছু শেয়ারে লেনদেন ছিল। এতে পুরো ব্যাংক খাত বড় পতন থেকে রক্ষা পেয়েছে।

খুচরা বিনিয়োগকারীদের আধিপত্যই দিনের বাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। 

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মোট ক্রয়াদেশের ৯০ দশমিক ০১ শতাংশ এবং বিক্রয়াদেশের ৯১ দশমিক ৩৮ শতাংশ এসেছে খুচরা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলক কম। তবে ব্লক মার্কেটে প্রাইম ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মা ও ব্র্যাক ব্যাংকের মতো শেয়ারে বড় লেনদেন হয়েছে। 

এদিকে বাজারের দুর্বলতার মধ্যেও কিছু ছোট মূলধনের শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। শ্যামপুর সুগার ও জিলবাংলা সুগারের মতো শেয়ারে দর বাড়লেও এসব বিচ্ছিন্ন উত্থান বাজারের সামগ্রিক বিক্রির চাপ কাটাতে পারেনি। 

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের তালিকায় থাকা শীর্ষ ২০টি কোম্পানি হলো- প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সাইহাম টেক্সটাইল, এপেক্স ফুডস, এসিআইএমই প্লাস্টিক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, টেকনো ড্রাগস, মালেক স্পিনিং, এনরয় টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল, ওরিয়ন ইনফিউশন, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, মতিন স্পিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক, সাইহাম কটন, বাংলাদেশ ল্যাম্পস, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডমিনেজ স্টিল, আইসিবি সোনালী ওয়ান ও আর্গন ডেনিম।

দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো—এপেক্স ফুডস, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিল বাংলা সুগার মিলস, আইসিবি সোনালী ওয়ান, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং, বাংলাদেশ ল্যাম্পস, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, উসমানিয়া গ্লাস, হাওয়েল টেক্সটাইলস ও ট্রেজারি বন্ড।

দরপতনের তালিকায় শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো—টেকনো ড্রাগস, ম্যাকসন্স স্পিনিং, নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার, জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জিএসপি ফাইন্যান্স, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম, আমান ফিড, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ও ওরিয়ন ইনফিউশন।