বিটিআরসির মাপে রবির নেটওয়ার্কে বড় অমিল, দুর্বল সেবা প্রত্যন্ত এলাকায়
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

অনলাইন ডেস্ক: একই নেটওয়ার্ক, দুই হিসাব- কোনটা সত্য? রবির  Quality of Service  রিপোর্ট ঘিরে উঠেছে বড় প্রশ্ন।

বিটিআরসির জুলাই ২০২৪-এর Quality of Service রিকনসিলিয়েশন রিপোর্টে রবির জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কমিশনের নিজস্ব পরিমাপে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, জাতীয় পর্যায়ের ৪১,৮১৯টি সেলের কাঁচা ‘র ডেটা’ না দিয়ে রবি প্রক্রিয়াজাত সামারি রিপোর্ট জমা দেয়। ফলে নেটওয়ার্কের প্রকৃত পারফরম্যান্স স্বাধীনভাবে যাচাই কঠিন হয়ে পড়ে।

বিটিআরসির হিসাবে টু জি কল ড্রপ রেট ছিল ০.২৪০৫%, যেখানে রবি দেখিয়েছে ০.২১৭৪%। ফরজি ডাউনলোড স্পিড বিটিআরসির মাপে ৬.৮৪৭৭ Mbps হলেও রবির রিপোর্টে ৭.০৫৪৪ Mbps।

এছাড়া ভিওএলটিই কল সেটআপ সাকসেস রেট বিটিআরসি পেয়েছে ৯৮.৯১%, রবি জানিয়েছে ৯৯.২৭%। 

ভিওএলটিই ড্রপ রেট -ও বিটিআরসির হিসাবে ০.১২%, বিপরীতে রবির হিসাবে ০.০৯%।

অর্থাৎ, জাতীয় পর্যায়ের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই বিটিআরসির পরিমাপ ও রবির জমা দেওয়া তথ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- অপারেটরের রিপোর্ট করা তথ্য দিয়ে কি নেটওয়ার্কের প্রকৃত মান পুরোপুরি বোঝা সম্ভব?

জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী কল সেটআপ সাকসেস রেট ন্যূনতম ৯৯ শতাংশ , কিন্তু বহু এলাকায় রবির কল সংযোগ তার অনেক নিচে! 

বিটিআরসির জুলাই ২০২৪-এর প্রতিবেদনে রবির নেটওয়ার্কে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বড় ধরনের পার্থক্য উঠে এসেছে। জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী কল সেটআপ সফলতার হার কমপক্ষে ৯৯ শতাংশ হওয়ার কথা। কিন্তু ৬৪ জেলার মধ্যে ৩টি এবং ৫৪৪ উপজেলার মধ্যে ২৪টি এই মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।

সবচেয়ে দুর্বল চিত্র দেখা গেছে পার্বত্য এলাকায়। বান্দরবানের থানচিতে 2G কল সেটআপ সফলতা মাত্র ৯০.৬০%, রুমায় ৯১.৩৭% এবং রোয়াংছড়িতে ৯৭.১৩%। ভয়েস কল সেটআপেও থানচিতে সফলতা ছিল ৯৪.৪১%। রাঙামাটির লংগদু ও নানিয়ারচরেও এই হার নেমে আসে যথাক্রমে ৯৪.৪১% ও ৯৪.২৩%-এ।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় ভয়েস কল সফলতা ছিল ৯৩.৯৪%। লক্ষ্মীছড়ি, মহালছড়ি, মানিকছড়ি, পানছড়ি ও রামগড়েও হার ছিল ৯৯ শতাংশের নিচে।

ইন্টারনেট সেবাতেও রয়েছে আঞ্চলিক বৈষম্য। জাতীয়ভাবে  ফরজির গড় ডাউনলোড গতি ৬.৮৪৭৭ এমবিপিএস, কিন্তু বাগেরহাটের চিতলমারী ও মোংলায় তা মাত্র ২.৬৯ এমবিপিএস। বাগেরহাট জেলার গতি বিটিআরসির মাপে ৩.৪১ এমবিপিএস হলেও রবির প্রতিবেদনে ৪.০৬ এমবিপিএস দেখানো হয়।

এদিকে রবি বলছে, শুধু বিটিআরসির নির্দিষ্ট পরিমাপ দিয়ে সামগ্রিক নেটওয়ার্ক মান বিচার করা উচিত নয়; কভারেজ, কল বিচ্ছিন্নতা, গতি ও নেটওয়ার্ক সচলতার মতো অন্যান্য সূচকও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিটিআরসি জানিয়েছে, দুর্বল এলাকাগুলো চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হিসাবের অমিল আর দুর্বল নেটওয়ার্ক, দুটোই এখন নজরদারির বিষয়। বাস্তবে গ্রাহক কতটা নির্ভরযোগ্য সেবা পাচ্ছেন, সেটাই হবে আসল পরীক্ষা।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি