যশোরে 'ডাকাত পড়েছে' বলে মসজিদে মাইকিং, গণপিটুনিতে আহত ৫
ছবি: সংগৃহীত

যশোর প্রতিনিধি: যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে ডাকাত সন্দেহে ৫ যুবককে সংঘবদ্ধ পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবক গ্রামে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা ও তল্লাশি করছিলেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাদের ডাকাত বলে সন্দেহ করেন।

এ সময় মসজিদে-মসজিদে মাইকিং করে এলাকায় ডাকাত আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের দুই গ্রামের মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। একপর্যায়ে বালিয়াডাঙ্গা বিসিক এলাকা থেকে ওই যুবকদের ধাওয়া করা হয়।

পরে মান্দারতলা এলাকায় প্রাইভেটকারটি রেখে তারা বিভিন্ন দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মালোপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা ৪ জনকে ধরে ফেলেন। পরে তাদের সংঙ্ঘবদ্ধ পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।

৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল নেমে এলো ২ হাজারে

স্থানীয়দের হাতে আটক ব্যক্তিরা হলেন- ঝিকরগাছা উপজেলার বাইশা চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। পরে পুলিশ তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন। তবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালে নেওয়ার পর আটক ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাদের একজন দাবি করেন, এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা নিতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন।

বাগেরহাটে বিকাশ-নগদ থেকে অর্থ লোপাট চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

আরেকজন বলেন, তাদের একজনের স্ত্রীকে নিতে এলাকায় এসেছিলেন। তবে গ্রামবাসী তাদের ডাকাত সন্দেহ করে আটক করেন। অন্য একজন দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। আটক ব্যক্তিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হতে পারেন।

তবে ডাকাতির কোনো ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে