নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জুন সমাপনী হিসাববছরের কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় দেশের পুঁজিবাজারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা তৃতীয় দিনের মতো সূচকের পতন হয়েছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট শেয়ার ও খাতে বাছাইভিত্তিক লেনদেন বাড়ায় বাজারের মোট লেনদেন সামান্য বেড়েছে।
গতকাল সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। একই দিনে ডিএসইর শরিয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কমেছে ৩ দশমিক ১২ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।
বাজারে লেনদেন হওয়া ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২৫টির দাম বেড়েছে, ২২৪টির কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ অধিকাংশ শেয়ারে বিক্রির চাপ থাকলেও কিছু বড় মূলধনি ও বাছাই করা শেয়ারের ওপর ভর করে সূচকের পতন সীমিত ছিল।
বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে লেনদেন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা কমেছে ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। এতে দেখা যায়, কম দামের শেয়ারের পরিবর্তে তুলনামূলক বড় মূলধনি শেয়ারে বেশি লেনদেন হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, জুন মাসে হিসাববছর শেষ হওয়া তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সভা ও নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ঘনিয়ে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, ওষুধ ও বস্ত্র খাতের বড় কোম্পানিগুলোর আয় ও সম্ভাব্য লভ্যাংশ নিয়ে বাজারে আগ্রহ রয়েছে।
এর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ উৎপাদনমুখী কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
দিনের লেনদেনে বস্ত্র খাত ছিল সবচেয়ে সক্রিয়। এ খাতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ২০১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ২৭ দশমিক ২০ শতাংশ। সায়হাম টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল ও পিপলস লিজিং সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে।
সাধারণ বিমা খাতেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ২০ শতাংশ। মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স ও সিটি ইন্স্যুরেন্সের মতো শেয়ারে সক্রিয়তা ছিল।
অন্যদিকে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সূচকে কিছুটা সহায়তা দিয়েছে।
পর্ষদ সভার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারে লেনদেন বেড়েছে। কোম্পানিটির মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারদর বেড়েছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য ছিল। অন্যদিকে ব্যাংক খাতের মধ্যে সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর বৃদ্ধিতে সূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিপরীতে পূবালী ব্যাংকের দরপতন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মূল বাজারের বাইরে ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে ৩২টি কোম্পানির শেয়ারে মোট ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকার ব্লক লেনদেন হয়েছে।
এর মধ্যে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং সিটি ইন্স্যুরেন্সে ৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ব্লক লেনদেন হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী দিনগুলোতে জুন সমাপনী কোম্পানিগুলোর পর্ষদ সভা, আর্থিক ফলাফল এবং লভ্যাংশ ঘোষণাই বিনিয়োগকারীদের মূল আগ্রহের বিষয় হবে। পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য তহবিল বিতরণের অগ্রগতিও বাজারের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।