বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে চাঙাভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকার শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে লেনদেনের গতি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। টানা পাঁচ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেড়েছে। তবে লেনদেনের এই উত্থানের সঙ্গে সূচকের বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে দশমিক ৮৩ শতাংশ।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, লেনদেন বৃদ্ধির অর্থ হলো বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বেড়েছে। তবে কোন কোন খাতে অর্থের প্রবাহ যাচ্ছে, সেটিই এখন বাজারের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে টেক্সটাইল, সাধারণ বিমা, ফার্মাসিউটিক্যালস ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তুলনামূলক বেশি লেনদেন হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা অনুযায়ী, সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৭৮ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহ শেষে এই সূচক ছিল ৫ হাজার ৫৩২ দশমিক ১৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ এক সপ্তাহে সূচক বেড়েছে ৪৬ দশমিক ১৮ পয়েন্ট। একই সময়ে ডিএস৩০ সূচক ১০ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১১২ দশমিক ১৩ পয়েন্টে এবং শরিয়া সূচক ডিএসইএস ৮ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করেছে।

লেনদেনে বড় উত্থান
গত সপ্তাহে বাজারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে লেনদেনের পরিমাণে। পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৯২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন ছিল ২ হাজার ৭৭৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা।

গড় দৈনিক লেনদেনও বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৭৮৫ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ৫৫৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকার তুলনায় ৪১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি শেয়ার হাতবদলের পরিমাণও বেড়েছে। গত সপ্তাহে মোট ১৩৬ কোটি ৮৬ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১০১ কোটি ৯৭ লাখ।

২৫২ কোম্পানির দর বেড়েছে
বাজারের অভ্যন্তরীণ চিত্রও ছিল ইতিবাচক। সপ্তাহজুড়ে ২৫২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১০৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর। ২৫টি কোম্পানির শেয়ারে কোনো লেনদেন হয়নি।

অর্থাৎ বাজারে দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা ছিল দরপতনের শিকার কোম্পানির চেয়ে বেশি। তবে সূচকের সীমিত উত্থান বলছে, বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির শেয়ারদরে বড় পরিবর্তন না হওয়ায় সামগ্রিক সূচকে প্রভাব তুলনামূলক কম পড়েছে।

টেক্সটাইল ও বিমায় বিনিয়োগকারীদের নজর
খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল টেক্সটাইল খাত। গত সপ্তাহে এ খাতে গড় দৈনিক লেনদেন হয়েছে ১৫৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ খাতে লেনদেন বেড়েছে ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বিমা খাত। এ খাতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১১৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। ফার্মাসিউটিক্যালস ও কেমিক্যাল খাতেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য; এ খাতে লেনদেন হয়েছে ১০৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

এছাড়া ব্যাংক, ইঞ্জিনিয়ারিং, মিউচুয়াল ফান্ড ও বিবিধ খাতেও লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ডে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন
সাপ্তাহিক রিটার্নের হিসাবে মিউচুয়াল ফান্ড খাত ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। এ খাতে গড় রিটার্ন হয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং, সাধারণ বিমা এবং জীবন বিমা খাতও ইতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। পুরো বাজারের সাপ্তাহিক রিটার্ন ছিল দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর বাজারের মূল্য-আয় অনুপাত (পি/ই) ছিল ৮ দশমিক ৮৬।

শীর্ষ লেনদেনে ব্যাংক ও ওষুধ কোম্পানি
গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর তালিকায় ছিল ইস্টার্ন ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও আইপিডিসি। ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। স্কয়ার ফার্মার শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। 

দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর এক সপ্তাহে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এরপর আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

মূলধনে চাপ থাকলেও বাজারে সক্রিয়তা বাড়ছে
লেনদেন বৃদ্ধির বিপরীতে বাজার মূলধনে সামান্য পতন দেখা গেছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ২৬ শতাংশ কম।