আক্কেলপুরে  গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নন্দাহার নদীর স্লুইসগেট এলাকা থেকে বেলী বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর স্বামীর প্রদত্ত বক্তব্যে গরমিল ও অসঙ্গতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদমান সাকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আবাদপুর পূর্বপাড়া গ্রামসংলগ্ন স্লুইসগেট এলাকা থেকে ওই নারীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত বেলী বেগম আবাদপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. বাচ্চুর স্ত্রী। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাচ্চু বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর কোনো খোঁজখবর না নিয়েই আহার গ্রহণ না করে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নন্দাহার নদীর স্লুইসগেটের পানিতে স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে গৃহবধূর মৃত্যু ও নিখোঁজ থাকা নিয়ে স্বামী বাচ্চুর বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি একপর্যায়ে দাবি করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বেলী গোসল করতে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। অথচ প্রতিদিন দম্পতি একসাথে রাতের খাবার খেলেও ওই রাতে স্ত্রী বাড়িতে না থাকা সত্ত্বেও তিনি স্ত্রীকে না ডেকে কিংবা খোঁজাখুঁজি না করেই ঘুমিয়ে পড়েন। পরিবারের অন্য কোনো সদস্যও নিখোঁজের বিষয়ে কোনো তৎপরতা দেখাননি।

গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবিবর রহমান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত নদীর পাড়ে যান এবং পানিতে পড়ে থাকা অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

এসআই জানান, সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিতের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরবর্তীতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি