মৌলভীবাজারে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার নির্ধারিত বর্ধিত হারকে তোয়াক্কা না করে মৌলভীবাজারে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের বাসে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হিসাবে মৌলভীবাজার-ঢাকা রুটে ভাড়া সর্বোচ্চ ৩৪ টাকা বাড়ার কথা থাকলেও পরিবহন সমিতিগুলো একলাফে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা যায়, মৌলভীবাজার থেকে ঢাকা রুটের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। সরকার নির্ধারিত প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বর্ধিত দর অনুযায়ী এই রুটে বাসের ভাড়া বাড়ার কথা ছিল মাত্র ৩৪ টাকা। তবে বাস্তবে এই রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে-অর্থাৎ অতিরিক্ত ৭০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আর এসি বাসের ক্ষেত্রে পূর্বের ভাড়ার চেয়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।

দূরপাল্লার পাশাপাশি মৌলভীবাজারের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতেও নৈরাজ্য চলছে। শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার, যেখানে সরকারি হার অনুযায়ী মাত্র ১৩ টাকা ৬০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির নিয়ম। অথচ সেখানে নন-এসি বাসে ৩০ টাকা বাড়িয়ে ২০০ টাকা এবং এসি বাসে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা নির্ধারিত হারের প্রায় তিনগুণ। কাউন্টারগুলোতে সরকারি ভাড়ার কোনো তালিকা ঝুলানো হয়নি।

নিয়মিত যাতায়াতকারী বেসরকারি চাকরিজীবী সেজু আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে হঠাৎ ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। প্রতি মাসে যাতায়াত বাবদ অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। বেতন না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় এমনভাবে বাড়লে পরিবার চালানো অসম্ভব।"

একই দুর্ভোগের কথা জানান সিলেটগামী শিক্ষার্থী আমির হোসেন। তিনি বলেন, "প্রতিদিন ক্লাস করতে গিয়ে অতিরিক্ত ৩০ টাকা ভাড়া দেওয়া আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বোঝা। কাউন্টারে প্রতিবাদ করলে পরিবহন কর্মীরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।"

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন অতিরিক্ত আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, "সরকার নির্ধারিত হারেই ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট কোনো পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রমানভিত্তিক অভিযোগ পেলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।"

তবে পরিবহন মালিকদের এই দাবিকে কাল্পনিক আখ্যা দিয়ে ভুক্তভোগী যাত্রীরা অবিলম্বে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ভাড়ার নৈরাজ্য বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি