সূচকের পতনেও লেনদেন বৃদ্ধি বাড়তি ঝোঁক নির্দিষ্ট শেয়ারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সূচকের পতন হয়েছে। তবে পতনের মধ্যেও লেনদেন বেড়েছে। বাজারের এ চিত্র বলছে, বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি বাজার থেকে সরে যাননি। বরং নতুন করে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা এখন বেশি বাছাই করছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। ফলে বড় পরিসরে নতুন বিনিয়োগ না এসে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ার ঘিরে লেনদেন হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০ দশমিক ২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৪০ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। আগের দিন সূচক ছিল ৫ হাজার ৫৫০ পয়েন্ট। তবে বাজারে লেনদেন হয়েছে ৭৯১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি।

সূচকের পতনের চেয়ে বাজারের ভেতরের চিত্রে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অংশগ্রহণের ধরন। গতকাল ৩৮৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২২৭টির দর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ১০৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৫টির দর। অর্থাৎ কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ থাকলেও সার্বিক বাজারে বিক্রির চাপই ছিল বেশি।

বাজারে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়তা দেখা গেছে বস্ত্র, সাধারণ বীমা এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এর মধ্যে বস্ত্র খাতে মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে। এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সাধারণ বীমা খাতে হয়েছে ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ লেনদেন।

বস্ত্র খাতে লেনদেন বাড়ার পেছনে কয়েকটি নির্দিষ্ট শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে। সায়হাম টেক্সটাইল গতকাল শীর্ষ লেনদেনকারী শেয়ারগুলোর একটি ছিল। কোম্পানিটির প্রায় ১১ লাখ ৪৮ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তবে এ সক্রিয়তার পেছনে নতুন কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে খাতভিত্তিক পুনর্মূল্যায়ন নাকি স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং আগ্রহ— তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ওষুধ ও রসায়ন খাতেও বড় কোম্পানির শেয়ারে লেনদেন ছিল উল্লেখযোগ্য। স্কয়ার ফার্মা ছিল দিনের শীর্ষ লেনদেনকারী শেয়ার। কোম্পানিটির প্রায় ২২ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। একইসঙ্গে রেনাটা-তেও বড় লেনদেন দেখা গেছে।

অন্যদিকে কিছু শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিও বাজারের নজরে এসেছে। ওরিয়ন ইনফিউশনের দর বেড়েছে ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং এটি সূচকের ইতিবাচক অবদানে থাকা শেয়ারগুলোর একটি। তবে কোম্পানিটির দর বৃদ্ধির পেছনে নতুন কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ ধরনের উত্থানকে আপাতত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বা স্বল্পমেয়াদি লেনদেন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের কিছু ইঙ্গিতও ছিল বাজারে। ব্লক ট্রেডে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা ও রেনেটার মতো বড় কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের প্রায় ২৭ লাখ ৭৫ হাজার শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে, যার মূল্য ছিল প্রায় ১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। স্কয়ার ফার্মার ব্লক লেনদেনের মূল্য ছিল প্রায় ১৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

তবে শুধু ব্লক ট্রেডের ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বাজারে এখনও অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা বড় কোনো বাজারভিত্তিক বাজি না নিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির পারফরম্যান্স, করপোরেট ঘোষণা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে সূচকের চেয়ে কোন শেয়ারে অর্থ প্রবাহিত হচ্ছে সেটিই এখন বাজারের মূল গল্প হয়ে উঠছে।

আগামীদিনে বাজারের গতি নির্ভর করবে করপোরেট ঘোষণা, অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর। বর্তমানে ডিএসইতে মূল চিত্র হলো লেনদেন আছে, কিন্তু ব্যাপক আস্থাভিত্তিক ক্রয়ের পরিবর্তে চলছে বাছাই করা শেয়ারে অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা।